চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায়ে চোর সন্দেহে ইমন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চার নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে।
পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা লাশ গুমেরও চেষ্টা করেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে হত্যার পুরো দৃশ্য। সেই ফুটেজ দেখে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে চারজনকে।
গতকাল বুধবার সকালে লাশ উদ্ধারের পর রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালেন বাকলিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন, মিজানুর রহমান মিজান (২৭), আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩) ও হাসান (৩৩)।
এদের মধ্যে মিজান দোকানি ও বাকি তিনজন বাকলিয়া কল্পলোক সিডিএ আবাসিক এলাকায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, নিহত ইমন (২১) নগরীর বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার ভাসমান যুবক। নেশাগ্রস্ত ও ভবঘুরে। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি কল্পলোক আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কে মিজানের চা-সিগারেটের দোকানে ঢোকেন। চুরি করতে ঢুকেছে ভেবে মিজান তাকে ধরে ফেলেন। হালকা মারধর করে কল্পলোকের চার নৈশপ্রহরীকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেন। তারা ইমনকে কল্পলোক মডেল মসজিদের পেছনে খালি মাঠে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে একপর্যায়ে ইমনের মৃত্যু হয়।
এরপর তারা লাশ সেখানে একটি ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে চলে যান।
ওসি শাহীনুর আলম আগামীর সময়কে বললেন, ‘নাইটগার্ডদের হাতে লাঠি ছিল। সেই লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। মারা যাবে সেটা অবশ্য তারা বুঝতে পারেনি। পরে যখন বুঝল যে মারা গেছে তখন লাশ ব্রিজের নিচে ফেলে দিল। আমরা লাশ উদ্ধারের পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোকানি মিজান ও চার নাইটগার্ডকে শনাক্ত করি। চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। একজন নাইটগার্ড এখনও পলাতক আছেন।’
এ ঘটনায় ইমনের ফুফু পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।



