‘আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব’ করতে বিমানবন্দরে ৪০ শতাংশ ট্যারিফ ছাড় চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

চট্টগ্রাম চেম্বার— সংগৃহীত
চট্টগ্রামকে ‘আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব’ করতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ট্যারিফের ৪০ শতাংশ ছাড় চাইল চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তার যুক্তি, এই সাশ্রয়ী ট্যারিফ ঘোষণা দিলে আর্ন্তজাতিক এয়ারলাইনস চট্টগ্রাম ঘিরেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। চট্টগ্রামকে নতুন হাব ধরেই বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব আসবে। ঢাকা বিমানবন্দরের ওপর ট্রাফিকের চাপ কমবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে এই দাবি বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানালেন। এর আগে চেম্বার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ঈদুল আজহার দিন অর্থমন্ত্রীর সাথে দেখা করে একই দাবি করেছিলেন। এখন সেটি লিখিতভাবে জানালেন আমিরুল হক।
তার দাবি বাস্তবায়নের পক্ষে উদাহরণ টেনে চেম্বার সভাপতি বললেন, ‘গত সরকার মোঙলা বন্দরের সক্ষমতা ব্যবহার নির্দিষ্ট পণ্য সেখানে খালাসের শর্ত দিয়েছিল। একইসঙ্গে আমদানি গাড়িসহ বেশকিছু পণ্য মোঙলা বন্দরে রাখতে ট্যারিফ কমিয়েছিল। এর ফলে মোঙলা অনেক বেশি সচল হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অযথা চাপ কমেছে। একই কৌশল চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও নেওয়া যায়।
দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ লাখ যাত্রী ওঠানামা করে। এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে বছরে গড়ে সাড়ে ৮ হাজার আন্তর্জাতিক এবং ১২ হাজার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করে। বিমানবন্দরের মোট আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রায় ৭৭ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যগামী অভিবাসী ও প্রবাসী শ্রমিক। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, রাত ১০টার পর এই বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী পণ্য উঠানামা বন্ধ থাকে। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট দুটি স্লটে অর্থাৎ সকালে এবং সন্ধ্যায় আর্ন্তজাতিক ফ্লাইট চলাচল করে। বাকি সময় প্রায়ই ফাঁকা থাকে।
চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার করতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা। চট্টগ্রামের আকাশ ব্যবহার করে পূর্ব থেকে পশ্চিমের দেশে চলাচলকারী আর্ন্তজাতিক ফ্লাইটকে জ্বালানি, অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের সুযোগ দেওয়া। এসব ফ্লাইটে ট্রানজিট যাত্রী উঠানামার সুযোগ করে দেয়ার দাবিও উঠেছে চেম্বার সভাপতির বক্তব্যে।
২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং চট্টগ্রামকে রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর এসব দাবির বাস্তবায়ন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে মনে করেন আমিরুল হক।
চট্টগ্রাম থেকে যাত্রীর পাশাপাশি উড়োজাহাজে কার্গো রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা আছে। সেই সুযোগ বাস্তবায়নে বিমানবন্দরের পাশে পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও বিমানবন্দর উভয়ের জন্যই কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি স্থাপন প্রয়োজন। বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ কিংবা বিল্ড অপারেটর ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ব্যবসায়ীরা সক্ষম ও আগ্রহী।







