গণ্ডগোল টোল নিয়ে, অথচ প্রচার হচ্ছে ‘হিন্দু নির্যাতন’ বলে

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে; যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষকে মারধর করা হচ্ছে, আর তা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন এক নারী।
বিএনপিকে চাঁদা না দেওয়ায় দুজন হিন্দু নারী-পুরুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে। তবে যাচাই করে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কী দাবি করা হচ্ছে
গতকাল ১৪ আগস্ট কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এবং ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে হালকা নীল শার্ট পরা একজন পুরুষ একে অপরের পোশাক ধরে হাতাহাতি করছেন আর একজন কালো পোশাক পরিহিত ব্যক্তির সাথে। হালকা নীল শাড়ি পরিহিত একজন নারী হাতাহাতি থামানো চেষ্টা করছিলেন।
এর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে- ‘বিএনপির চাঁদাবাজদের চাঁদা না দেওয়ায় দুই জন হিন্দু পুরুষ ও মহিলাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হামলা’। এর মধ্যে ‘Rajon Ahmed’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১০৪ বার শেয়ার হয়েছে।‘জয় বাংলা’ নামের আরেকটি পেজ থেকে ভিডিওটি ছড়িয়েছে একই ক্যাপশানে।
আসলে ঘটনাটি কী
ভিডিওটির স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে ১৪ আগস্ট বিইসি (BEC) ও সিএইচডি নিউজ২৪ (Chdnews24)-এ ফেসবুকে প্রকাশিত এই একই ভিডিও পাওয়া যায় ২৯ সেকেন্ডের। এবং ক্যাপশানে লিখা হয় ‘টোল না দেওয়ায় সেতুতে হা'তাহাতি থেকে তু'মুল মা'রা'মা'রি’ ।
প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি সেতুর ওপর ঘটেছিল। মূলত টোল দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া একটি বিরোধের জেরে এই ঘটনার সূত্রপাত।
প্রকাশিত ভিডিও গুলোতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ওই ব্যক্তিদের ধর্মীয় কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিংবা হামলাকারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে চাঁদা দাবি করছিল।
ধর্মীয় কারণে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও।
তাই প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, সেতুর টোল দেওয়া নিয়ে হওয়া একটি সংঘাতকে চাঁদার দাবিতে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।







