পটিয়া
অভিমান ভেঙে স্বামীর ঘরে ফিরেই লাশ হলেন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ

তানিয়া কামাল নিহাত
চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তানিয়া কামাল নিহাত নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে তার স্বামী নুর উদ্দিনকে।
তানিয়ার মায়ের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন নিহাত। ফিরিয়ে নেওয়ার পাঁচদিনের মাথায় তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রাম থেকে গৃহবধূ তানিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ সময় তাকে দাফনের আয়োজন চলছিল বলে জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রায় ২১ বছর বয়সী তানিয়ার বাবার বাড়ি পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামে।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক আগামীর সময়কে জানালেন, তানিয়ার বাবা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাশ উদ্ধার করে তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওসি বললেন, ‘তানিয়া সাড়ে আট মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে নুর উদ্দিন জানালেন, গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পর দুই-তিনবার বাসায় রান্না করা বিরিয়ানি খান তানিয়া। গভীর রাতে তার ডায়রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। ভোরে তাকে পটিয়ার নিউরন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার লাশ বাড়িতে নিয়ে যান তারা।’
পটিয়া পৌরসদরের বেসরকারি নিউরন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার তানিয়া কামাল নিহাত নামে কোনো রোগী তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তাদের নিবন্ধন বইয়েও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।
তানিয়া কামালের মা সাংবাদিকদের জানালেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তানিয়া ও নুর উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন কারণে-অকারণে তার গায়ে হাত তুলতেন। গলা টিপে ধরতেন। মারধর করতেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তানিয়া। মাসখানেক আগে বাবার বাড়িতে এসে তিনি থেকে যান। বারবার অনুরোধের পরও তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরত যেতে রাজি হননি।
গত বৃহস্পতিবার নুর উদ্দিন শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তার মা মৃত্যুশয্যায় জানিয়ে তানিয়াকে যাবার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। প্রথমে তানিয়া রাজি ছিলেন না। পরে বাবা-মায়ের অনুরোধ রাজি হয়ে স্বামীর সঙ্গে যান।
তানিয়ার মা বললেন, ‘সোমবার সকালে জামাই ফোন করে বলল আমার মেয়ে মারা গেছে। তখন তানিয়ার বাবা এলাকার চেয়ারম্যান নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। আমরাও যাই। গিয়ে দেখি তানিয়ার গলায় ফাঁসের দাগ। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। আমার মেয়েকে তারা গলাটিপে মেরে ফেলেছে।’
গলায় আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত হয়েছে বলে জানালেন ওসি জিয়াউল হক, ‘একটা জখমের দাগ পাওয়া গেছে। আটক নুর উদ্দিন বলছেন, তানিয়ার গলায় মাদুলি ছিল। সেটা থেকে কাটা গিয়ে দাগ পড়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’




