পুলিশকেই নজরদারি!

সংগৃহীত ছবি
সকাল পৌনে ৮টা। চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার আমতল এলাকায় ফুটপাতের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। দোকানিরা হঠাৎ দেখলেন শাহ আমানত মার্কেটের সামনে থেকে একদল তরুণ-যুবককে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মিছিল করে আসতে। ব্যানারে লেখা, ‘সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ-ছাত্রসংসদ, চট্টগ্রাম’। অর্থাৎ মিছিলকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। গতকাল শনিবার সকালের এই মিছিলের পর ফেসবুকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে দেন তার ভিডিও ক্লিপ। পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মিছিলটিতে ছিলেন অর্ধশতাধিক যুবক-তরুণ। এর মধ্যে তারা সামনের সারিতে থাকা কয়েকজনকে ঘণ্টাখানেক ধরে শাহ আমানত মার্কেট থেকে নিউ মার্কেট এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। বোঝা গেল, যাদের নজরদারিতে রাখার কথা পুলিশের, তারাই উল্টো পুলিশের গতিবিধি রেখেছিলেন নজরদারিতে। ভোর ৬টার পর থেকেই ঘোরাঘুরি শুরু করেন ওই যুবক-তরুণরা। রিয়াজউদ্দিন বাজারের আশপাশের অন্তত আটটি স্পটে তিন-চারজন করে নেন অবস্থান। নন্দনকানন এক নম্বর গলির মুখে, এনায়েতবাজার রানীর দীঘিরপাড়, গোলাম রসুল মার্কেট, তিন পোলের মাথা, নিউ মার্কেট বাটা বাজার ও ফুলকলির সামনে এবং রাইফেল ক্লাব ও মুসলিম হলের সামনের বিভিন্ন স্পটে ছিল তাদের অবস্থান।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তারা ‘গেরিলা কায়দায়’ ঘোরাঘুরি করেন এসব স্পটে। পৌনে ৮টা বাজতেই সবাই শাহ আমানত মার্কেটের সামনে থেকে একযোগে শুরু করে দেন মিছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, মিছিল যখন নিউ মার্কেট মোড় অতিক্রম করছিল, তখন সেখানে দাঁড়ানো ছিল পুলিশের একটি ভ্যান। পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে মিছিল নিয়ে যান নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন। গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার। সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার মধ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের বিষয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বললেন, ‘মিছিল থেকে দুজন এবং পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলমান আছে, মামলা হবে।’
নগর পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানালেন, মিছিলটিতে ছিল ২০-২৫ জন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সিটি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক এম এইচ ফয়সাল, কোতোয়ালি থানার সভাপতি মোহাম্মদ জুনায়েদ ও পাঁচলাইশ থানার প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং সিটি কলেজের নেত্রী ফারজানা আক্তারকে শনাক্ত করা হয়েছে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী হিসেবে।




