এক ইলিশের দাম ১৪ হাজার!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঐতিহ্যময় গৌরব আর স্বাদ অহংকারের বড় ইলিশ এখন অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। এখন মিলছে কম, সাইজও ছোট। দাম আকাশছোঁয়া। এরকম পরিস্থিতিতে বাজারের কোনো এক দোকানির কাছে পৌনে তিন কেজির ওজনের একটি ইলিশ মাছ। ক্রেতা তো বটেই, দোকানিরাও এত বড় ইলিশ দেখে হতবাক! বলা হচ্ছে এ মৌসুমে চট্টগ্রামের কাজীরদেউড়ি বাজারে এটিই সবচেয়ে বড় ইলিশ।
দোকানে মাছটি সাজানো হয়নি। বরফ দিয়ে দোকানের নিচে সযত্নে রাখা হয়েছে। সমঝদার ক্রেতা দেখেই মাছটি ওপরে তোলা হয়। মাছের রঙ, বিশাল আকার দেখে মুগ্ধ ক্রেতা দাম শোনে ঢোক গিলেন। দেখেই মনমাতানো শান্তি, যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো।
দোকানি লিটন জানালেন, ‘মাছটি বরিশাল থেকে আনা হয়েছে। কেজি সাড়ে ৫ হাজার টাকা।’ এত দাম দিয়ে কে খাবে ইলিশ? এই প্রশ্নে তার জবাব, ‘কেউ না কেউ কিনবে। এত বড় মাছ সবসময় বাজারে আসে না।’
খানিক পরেই এলেন এক শৌখিন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। ওজন দিয়ে দেখলেন। কানশা তুলে ঘ্রাণ নিয়ে মাছ কেমন স্বাদ হবে সেটিও পরখ করলেন। দরদাম নিয়ে কিছুটা কথা-কাটাকাটি হলো। বাজারে যারা মাছ কাটে তাদের এনেও মাছ দেখালেন। কয় পিস হবে সেটিও জানতে চাইলেন তার কাছে।
সে জানাল, রেস্টুরেন্টে বিক্রির জন্য মাথা-লেজ বাদ দিয়ে ৮ পিস। শেষমেশ মাছটির দাম রফা হলো ১৪ হাজার ৩০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পিসের দাম প্রায় ১৮০০ টাকা। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নিলেন। মাছের ছবি পাঠিয়ে স্টাফদের নির্দেশ দিলেন বড় ইলিশ কেনা হয়েছে। কে খাবেন কাস্টমার খোঁজ।
১০ মিনিট পর রেস্টুরেন্ট থেকে এক স্টাফ ফোন দিয়ে জানালেন, দাম কত পড়বে? ১৮০০ টাকা পিস বিক্রির নির্দেশ দিয়ে মাছ নিয়ে চলে গেলেন ব্যবসায়ী। নাম জানাতে অনাগ্রহী ওই ব্যবসায়ী জানালেন, ‘লাভের জন্য নয়, সুনামের জন্য কেনা হয়েছে মাছটি। ইলিশ পাতুড়ি ও শরষে ইলিশ দুইভাবে রান্না হবে। মাছ খেয়ে স্বাদ পেলে ভোজনরসিকরা প্রচার করতে থাকবেন।’



