পরিবহন খরচের দোহাই, চালের দাম প্রতি কেজি বাড়ল ২ টাকা

চাল
চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। নিয়মিত চাল আসছেও। সংকট নেই। তবু দু সপ্তাহে চালের দাম পাইকারি এবং খুচরা উভয় পর্যায়ে বেড়েছে। পাইকারিতে বস্তাপ্রতি ন্যূনতম ১০০ টাকা পর্যন্ত চালের দাম বেড়েছে। খুচরায় দাম পড়ছে কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২ টাকা। চালের বৃহৎ পাইকারি বাজার পাহাড়তলীতে এই চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ ও ধানের দামের প্রভাবে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। যার কারণে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে।
তবে চালের দামের চেয়ে শুক্রবার পাহাড়তলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের আতপ চালের দাম বেড়েছে। স্বর্ণা আতপ চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে টাকা এখন ৭২ টাকা। ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা। প্রতি বস্তা কাটারি চালের ৫০ কেজি বস্তায় ১৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা, মিনিকেটে ৩ হাজার টাকা এবং নাজিরশাইল ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোটা সেদ্ধ চালেও কেজি প্রতি ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তা জিরাশাইল ৩ হাজার টাকা, পাইজাম ২ হাজার ৯০০ টাকা, নূরজাহান ২ হাজার ৭০০ টাকা, ভিয়েতনামি বেতি ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে সব থেকে বেশি। প্রায় হাজার টাকা। দুই মাস আগেও যা ছিল ৬ হাজার ৫০০ টাকা তা আজকের বাজারে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সত্যতা ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ জমির জানালেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে আড়ত পর্যন্ত কয়েক দফায় পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় পাইকারিতে এর প্রভাব পড়ছে।’
তবে পরিবহন ভাড়ার তুলনায় চালের দাম বেশি বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। যে হারে চালের দাম বেড়েছে ট্রাক ভাড়া সেভাবে বাড়েনি বলে মনে করছেন তারা।
বাজারে চাল কিনতে আসা ক্রেতা মুসলেহ উদ্দিন বললেন, ‘এক গাড়িতে চাল থাকে ১৫ হাজার কেজির আশেপাশে। ট্রাক ভাড়া বেড়েছে দুই থেকে তিন হাজার হাজার টাকা। কেজিতে ১ টাকা করেও যদি বাড়ানো হয় তখনও ১৫ হাজার টাকা বেশি পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাহলে চালের দাম এত বাড়ছে কেন? বাজারে তদারকি না থাকায় আমাদের বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।’
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বললেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে। গাড়ি ভাড়াও বেড়েছে। কেজি প্রতি চালের দাম ১ বা ২ টাকা না বাড়ালে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে তেলের দামের বাহানা দিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়ানো অনুচিত।’
পাহাড়তলী চালের আড়তের নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে চাল আসে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।



