চায়না ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ শুরু
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় পদক্ষেপ বললেন অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
২০৩৪ সালে সরকারের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চায়না ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ শুরু একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই জোনে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে। যে অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে তাতে আমার ধারনা যে বিশাল জোনে ভবিষ্যতে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এই অঞ্চলে অথনৈতিক ইমপেক্ট, সাপ্লাই চেইন ডেভলেপ হবে।
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে আনোয়ারায় ‘চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আশাবাদ শোনা যায়।
সাড়ে ১১ মিনিটের বাংলা-ইংরেজি মেশানো বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বিশাল উদ্যোগের জন্য চীনকে ধন্যবাদ দেন। মাইলস্টোন হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার আশা করেন। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে চীনের বিনিয়োগ চান।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর নানা জটিলতায় ঝুলে ছিল প্রকল্প। একদশক অপেক্ষার পর যাত্রা শুরু চট্টগ্রামের চায়নিজ ইকোনমিক জোনের। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পরই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই প্রকল্পে গতি পায়।
আনোয়ারার প্রকল্পমাঠে নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে গড়ে ওঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এটি নির্মিত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজের অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, আর বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বাস্তবায়নের মোট সময় পাঁচ বছর ধরা হলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা আছে।
সরকারের আশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে। এখানে বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, মেডিক্যাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে।




