বিড়াল ছানার লোভ দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর খুন, আসামির ফাঁসি

ছবি: আগামীর সময়
বিড়াল ভালোবাসত ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নী। সেই ভালোবাসায় কাল হয়েছিল। বিড়াল ছানা দেওয়ার নামে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যান বাসার সামনে ভ্যানে করে নিয়মিত সবজি বিক্রি করা এক ব্যক্তি। আয়নীকে একটি খালি বাসায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। না পেরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ফেলে দেন ডোবায়।
তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে আদালত শিশুটিকে হত্যার দায়ে সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ রুবেলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যেকটি আলাদা অপরাধের জন্য আলাদাভাবে আরও সাজা দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুর রহমান আসামি রুবেলের উপস্থিতিতে এ রায় দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানালেন, আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আনা সব অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন আদালত। আসামিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে একই আইনের ৯ (৪) এর খ-ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে নড়রীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাই লেইন মুরগির ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে আবিদা সুলতানা আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আয়নী নগরীর সরাইপাড়ায় আব্দুল আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘিরপাড় এলাকায় তাদের বাসা। দণ্ডিত ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রুবেলের বাসাও একই এলাকায়।
মামলার নথির তথ্য, ২১ মার্চ থেকে আয়নী নিখোঁজ ছিল। ২৮ মার্চ তার মা পোশাককর্মী মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সেসময়ের বিচারক শারমিন জাহান অভিযোগ গ্রহণ করেন। আদালত পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সেই মামলার ভিত্তিতে তদন্তের নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২৮ মার্চ রাতেই রুবেলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যে পরদিন ভোরে মরদেহ উদ্ধার হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের তৎকালীন পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানিয়েছিলেন, ঘটনার তিন মাস আগে রাস্তায় একটি বিড়ালের বাচ্চা ধরতে গিয়ে রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে সামান্য আহত হয়েছিল আয়নী। রুবেল তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার দিন বিকালে রুবেল তার বোনের বাসা থেকে বিড়ালের বাচ্চা এনে দেবে বলে আয়নীকে ওই এলাকায় তার কথিত ফুফুর চার তলার একটি খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আয়নী চিৎকার করলে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সেখানেই মরদেহ রেখে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর গিয়ে আয়নীর মরদেহ বস্তায় ভরে তার ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরা ডোবায় ফেলে দেন। একটি লালব্যাগে করে আয়নীর বোরকা, স্যান্ডেল আরেক জায়গায় ফেলেন। আয়নীকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে রুবেলও তার পরিবারের সঙ্গে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজার নাটক করেন বলে জানিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তা নাইমা।
রুবেল আদালতে জবানবন্দি দিয়ে খুনের দায় স্বীকার করেন। একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ২৪ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।




