ডিসি হিলের কাছে কয়েক ঘণ্টার সকালের বাজার

ডিসি হিলের অদূরে সাতসকালে জমে উঠেছে তাজা সবজি ও মাছের বাজার
সকাল সাড়ে ৭টা। নগরীর ব্যস্ততা তখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে জামালখানের সিঁড়ির গোড়া ও ডিসি হিলের রাস্তায় তখন অন্যরকম ব্যস্ততা। ফুটপাতের পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কারও সামনে ঢেঁকিশাক, লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক। কারও সামনে মরিচ, করলা, লাউ ও বেগুন।
একটু সামনে সারি করে রাখা বিভিন্ন ধরনের মাছ। তার পাশেই ভ্যানে বিভিন্ন ফলমূল। ক্রেতারা একে একে এসে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ দরদাম করছেন, কেউ হাতে থাকা ব্যাগে সবজি তুলছেন আবার কেউ মাছ পছন্দ করে বাড়ির পথ ধরছেন।
এটি স্থায়ী কোনো বাজার নয়, নেই সারি সারি দোকান কিংবা নির্দিষ্ট বাজারের অবকাঠামো। অথচ সকাল হলেই এখানে তৈরি হয় বাজারের সেই চেনা চিত্র। জামালখান সিঁড়ির গোড়া থেকে ডিসি হিল (মোমিন রোড) পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে বসে পৃথক দুটি সকালের বাজার। কয়েক ঘণ্টার জন্য জমে ওঠা এই কেনাবেচা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই আবার গুটিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে তাই এটি বাজার না হয়েও পরিচিত ‘সকালের বাজার’ হিসেবে।
ডিসি হিলে সকালে হাঁটতে আসা মানুষের উপস্থিতি এই অস্থায়ী বাজারের ব্যস্ততা আরও বাড়িয়ে দেয়। হাঁটা শেষে ফেরার পথে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েন বিক্রেতাদের সামনে। যার যার প্রয়োজনীয় শাকসবজি, মাছ কিংবা ফল কিনে বাড়ি ফেরেন। হাঁটতে এসে বাজার করে নেওয়া এখন অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের বাসভবন বলে এটিকে বলা হয় ডিসি হিল। জামালখান হলো ডাক্তারপাড়া।
সকালের এই বাজারের বড় আকর্ষণ টাটকা পণ্য। শাপলা, লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাকসহ বিভিন্ন শাকের পাশাপাশি বেগুন, পটল, কচু, কলার মোচাসহ নানা সবজি ও মাছ পাওয়া যায়।
শাপলা প্রতি আঁটি ২০ টাকা, লালশাক আঁটি ২৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, কলমি শাক ২০ টাকা, বেগুন ৬০-১২০ টাকা কেজি, পটোল ৭০-৮০ টাকা, ছড়া কচু ৪০-৬০ টাকা এবং ওল কচু ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এছাড়া কলার মোচা আকারভেদে ৩০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
ছোট মাছ, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন মাছও কিনছেন ক্রেতারা। ইলিশ আকারভেদে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ২২০০ টাকা। এ ছাড়া কাকড়া ১৫০-২০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০-১০০০ টাকা, বাইন মাছ ৪০০-৯০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-৩০০ টাকা, মলা মাছ ২০০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
ক্রেতা অরূপ বড়ুয়া বললেন, ‘সকালের এই বাজারে টাটকা জিনিস পাওয়া যায়। আশপাশের বাসার লোকজনও আসে। আবার হাঁটা শেষ করে বাসায় ফেরার সময় কেউ কেউ কেনেন।’
হাতে সবজির ব্যাগ নিয়ে আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বাজার কাছে হওয়ায় সুবিধা অনেক। সকালে হাঁটতে বের হয়ে ফেরার পথে প্রয়োজনীয় সবজি, মাছ কিনে নেওয়া যায়।’
ভোর থেকেই শুরু হয় বিক্রেতাদের দিন। রাতের ঘুম শেষ করে পণ্য নিয়ে তারা এসে বসেন সড়কের পাশে। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ সোহেল বললেন, ‘এখানে শাক, সবজি, মাছ সব টাটকা পাওয়া যায়। তাই আশপাশের বাসিন্দারা সকালে দ্রুত বাজার সেরে বাড়ি ফিরতে পারেন।’
সকাল যত বাড়ে, ততই বাড়তে থাকে ক্রেতাদের চাপ। তবে এই ব্যস্ততার আয়ু বেশি নয়। বাজারের কারণে অফিস ও স্কুলমুখী লোকজনে কিছুটা যানজটে পড়েন। যার কারণে ঘড়ির কাঁটা ৯টা পেরোনোর পর বিক্রেতাদের মধ্যে পসরা গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। যে জায়গায় কিছুক্ষণ আগেও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক ছিল, সেখানে তখন আর বাজারের চেনা ব্যস্ততা নেই।



