চট্টগ্রামে ২ হাজার ২৭৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রামে এবার দুই হাজার ২৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি মনিটরিং দল ও সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ গঠন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। একই সঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন সাধারণ ছুটিসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা কমিটি এসব তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন, সাবেক সভাপতি দীলিপ মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কুমার চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক জানান, জেলার ১৬ উপজেলা ও পৌরসভায় ১ হাজার ৬৫৫টি সার্বজনীন প্রতিমাপূজা এবং ৬১৯টি ঘটপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে বোয়ালখালীর শ্রীশ্রী চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে মহালয়া উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে পরিষদ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা যায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে দুর্গাপূজায় চার দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা, দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে একটি করে মডেল মন্দির নির্মাণ, বোয়ালখালীর চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ কাট্টলীর রানি রাসমণি বারুণী স্নানঘাট বা ‘সমুদ্রতীর্থ’ সংস্কার ও উন্নয়ন অন্যতম।
এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুদানের মধ্যে নগরের ১৬টি থানার আওতাধীন ২৯৪টি পূজামণ্ডপে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে পাঁচ লাখ, জামালখানের কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপে ১৫ লাখ এবং চসিকের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য মোট দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নগরের সব মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এখানে সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



