চমেক হাসপাতাল
বৃদ্ধার পাশ থেকে নাতনীকে নিয়ে হাওয়া, গ্রেপ্তার দম্পতি

শিশু অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি— সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পঞ্চম তলায় এক বৃদ্ধা বসে ছিলেন তার ১৫ মাস বয়সী নাতনীকে নিয়ে। তিন দিনের নবজাতক এক রোগীর স্বজন হিসেবে তারা সেখানে ছিলেন। এক নারী পাশে বৃদ্ধার সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। এর মধ্যে কান্না শুরু করেন নাতনী।
মেয়েটিকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে ওই নারী হাসপাতালের নিচে নিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পরও ফিরে না আসায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ততক্ষণে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে হাওয়া। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর নগরীর চান্দগাঁও থেকে পুলিশ ওই নারী ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নাছিমা বেগম (২৫) ও তার স্বামী বোরহান উদ্দীন (৩০)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। তারা চমেক হাসপাতালে সক্রিয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য মিলেছে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালের পঞ্চম তলায় নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে মেয়েটিকে নিয়ে হাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন নাছিমা। মেয়েটির নাম নাজেহাদ। তার বাবা সোহেল রানা কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকালে সোহেল রানার স্ত্রী তসলিমা তার ছোট বোনের সদ্য প্রসব করা মেয়েকে নিয়ে চকরিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তসলিমার মা ও মেয়ে। নবজাতকের মা প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে চকরিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ৩২ নম্বর এনআইসিইউ ওয়ার্ডে নবজাতককে ভর্তি করা হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানালেন, তসলিমা নবজাতককে নিয়ে এনআইসিইউ ওয়ার্ডের ভেতরে ছিলেন। তার মা ও মেয়ে পঞ্চম তলার বারান্দায় বিছানা পেতে বিশ্রাম নিতে থাকেন। শুক্রবার বিকালে নাছিমা গিয়ে তসলিমার বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে ভাব জমান। একপর্যায়ে নাজেহাদকে নিয়ে চলে যান।
রাতে সোহেল রানা পাঁচলাইশ থানায় অপহরণের মামলা করেন বলে জানালেন তিনি, ‘আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাছিমার অবস্থান শনাক্ত করে এক কিলোমিটার এলাকা থেকে তাকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছেই নাজেহাদকে পাওয়া যায়। তাদের অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার বিকালে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
কী কারণে শিশুটিকে নাছিমা নিয়ে গিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি বলে জানালেন এসআই আশেক। তিনি বললেন, ‘নাছিমা নিঃসন্তান। এ কারণে নিয়ে গিয়েছিল না কি বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল নিয়েছিল সেটা জানতে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।’






