অসম্ভব ধারণাগুলোকে আজকাল সম্ভবে পরিণত করছে বিজ্ঞান
কৃত্রিম ডিম থেকে জন্ম নিল মুরগি

ফিরে আসছে বিলুপ্ত পাখি?
বিজ্ঞান এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একসময় অসম্ভব মনে হওয়া ধারণাগুলোও ধীরে ধীরে বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। অসম্ভব ধারণাগুলোকে আজকাল সম্ভবে পরিণত করছে বিজ্ঞান।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কলোসাল বায়োসায়েন্স’ নামের একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তারা এমন একটি ‘কৃত্রিম ডিম’ তৈরি করেছে, যা কি না বিলুপ্ত পাখিকেও পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পথ খুলে দিতে পারে।
শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো লাগলেও, এই প্রযুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে বিজ্ঞানমহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো নিউজিল্যান্ডের বিলুপ্ত বিশালাকৃতির পাখি সাউথ আইল্যান্ড জায়ান্ট মোয়াকে ফিরিয়ে আনা। প্রায় ৩ মিটার লম্বা এই পাখিটি ১৪০০ শতকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক মোয়ার ওজন হতে পারত ৫০০ পাউন্ড।
মজার বিষয় হলো, কৃত্রিম ডিমটি দেখতে অনেকটা সাধারণ প্লাস্টিকের কাপের মতো। তবে এর ভেতরের প্রযুক্তিই একে অসাধারণ করে তুলেছে। ডিমটির ভেতরে রয়েছে বিশেষ ধরনের সিলিকন মেমব্রেন বা পাতলা আবরণ, যা প্রাকৃতিক ডিমের খোলসের মতো অক্সিজেন প্রবেশ করতে দেয়। ফলে ভ্রূণ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা আসল ডিমের ভেতরের উপাদান সাবধানে কৃত্রিম ডিমে স্থানান্তর করেন। এরপর ওপরের ছোট একটি অংশ খোলা রেখে তারা ভ্রূণের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করেন। এরই মধ্যে এই কৃত্রিম ডিমে মুরগির বাচ্চা সফলভাবে ফুটেছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মোয়ার মতো বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনা এখনো অনেক দূরের পথ। কারণ, শুধু ডিম বানালেই হবে না— প্রথমে পুরনো হাড় থেকে মোয়ার ডিএনএ সংগ্রহ করতে হবে। তারপর বর্তমান কোনো পাখির জিনে হাজার হাজার পরিবর্তন এনে সেই বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে হবে। এটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ।
আসলে কৃত্রিম ডিম নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। ১৯৯৮ সালেই জাপানের বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম ডিমে কোয়েল পাখির বাচ্চা ফুটিয়েছিলেন। তবে তখন অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে হতো, যার কারণে কিছু বাচ্চার জেনেটিক সমস্যা দেখা দিত। নতুন প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, এতে স্বাভাবিকভাবেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে।
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্টেম-সেল জীববিজ্ঞানী পল মজ্জিয়াক এই আবিষ্কার সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটি সত্যিই দারুণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে যথেষ্ট তথ্য ছাড়া এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা কঠিন।’
বিজ্ঞান যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে— ভবিষ্যতের পৃথিবী হয়তো আজকের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি বিস্ময়কর হতে যাচ্ছে।
সূত্র: অডিটিসেন্ট্রাল







