মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা ১০ শহর

সংগৃহীত ছবি
মরুভূমি এবং মানবসভ্যতা— সাধারণ দৃষ্টিতে এ দুটি বিষয় পরস্পরের বিপরীত। মরুভূমি মানেই বিস্তীর্ণ বালুচর, পানির সংকট, তপ্ত বাতাস আর কঠিন জীবনযাপন। সেখানে বড় শহর গড়ে ওঠা যেন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের পরিবর্তন। কারণ মরুভূমিতে সহজলভ্য পানি, কৃষির অনুকূল পরিবেশ কিংবা আরামদায়ক আবহাওয়া নেই। বছরের বড় একটি সময় এখানে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। তবু পৃথিবীর কিছু শহর এই প্রতিকূলতাকেই নিজেদের শক্তিতে পরিণত করেছে। কোনো শহর গড়ে উঠেছে নদী বা মরূদ্যানকে ঘিরে, কোনো শহর টিকে আছে প্রযুক্তি, আমদানি করা পানি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর। কোথাও পর্যটন, কোথাও তেল, কোথাও আবার ব্যবসা-বাণিজ্য শহরগুলোকে দিয়েছে নতুন পরিচয়। পৃথিবীর বিভিন্ন মরুভূমিতে গড়ে ওঠা এমনই ১০টি সফল শহরের গল্প নিয়ে আজকের আয়োজন।
১. শারম আল শেখ, মিসর
সিনাই উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের ভৌগোলিক অবস্থান এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের জন্ম দিয়েছে। একদিকে শুষ্ক ও উত্তপ্ত পাহাড়ি মরুভূমি, আর ঠিক তার পাশেই লোহিত সাগরের বুকে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ প্রবাল প্রাচীর। এই দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে মিসরীয় সরকার এই রিসোর্ট শহরটি গড়ে তোলে। শারম আল শেখের স্থায়ী জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। তবে ডাইভিং এবং সমুদ্রসৈকতের মূল পর্যটন মৌসুমে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত রাস মোহাম্মদ জাতীয় উদ্যানটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্কুবা ডাইভিং গন্তব্যগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে প্রবাল প্রাচীরের দেয়ালগুলো প্রায় ৮০০ মিটারেরও বেশি গভীরে নেমে গেছে। ২০২২ সালে এখানে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ২৭) অনুষ্ঠিত হয়, যা শহরটিকে বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনায় নিয়ে আসে। এখানকার আবহাওয়া সারা বছরই গরম ও শুষ্ক থাকে, আর এই আবহাওয়ার টানেই মূলত পর্যটকরা এখানে ভিড় করেন।
২. সান্টা ফে, নিউ মেক্সিকো
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের সান্টা ফে গড়ে উঠেছে উত্তর নিউ মেক্সিকোর উঁচু মরু মালভূমিতে, সাংগ্রে ডি ক্রিস্তো পর্বতমালার দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ১৯৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শহর ১৬১০ সালে স্প্যানিশ উপনিবেশকারীরা প্রতিষ্ঠা করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত অঙ্গরাজ্য রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে শহরটি। বর্তমানে এটির জনসংখ্যা প্রায় ৮৯ হাজার। ১৯২০-এর দশকে শিল্পী জর্জিয়া ও’কিফসহ অনেক আধুনিক শিল্পী এখানে বসতি গড়ার পর থেকেই ক্যানিয়ন রোড ও আশপাশের গ্যালারি এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় শিল্পবাজারে পরিণত হয়। প্রতি বছর লেবার ডে উপলক্ষে আয়োজিত ‘বার্নিং অব জোজোবরা’ উৎসবও শহরটির পরিচিতি বাড়িয়েছে। ৫০ ফুট উচ্চতার এক পুতুল পুড়িয়ে প্রতীকীভাবে বছরের দুঃখ-দুর্দশাকে বিদায় জানানোর এই আয়োজন চলছে ১৯২৪ সাল থেকে।
৩. ক্যাসাব্লাঙ্কা, মরক্কো
মরক্কোর বৃহত্তম শহর এবং অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ক্যাসাব্লাঙ্কা। মূল শহরে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ লাখ এবং বৃহত্তর মহানগর এলাকায় ৪৩ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদ। ১৯৯৩ সালে যখন এর নির্মাণকাজ শেষ হয়, তখন এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। এর ৬৮৯ ফুট উঁচু মিনারটি পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ধর্মীয় স্থাপনা। ১৯৪২ সালের বিখ্যাত হলিউড চলচ্চিত্র ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’র নাম এই শহরের নামে হলেও, সিনেমাটির দৃশ্যধারণ এখানে হয়নি। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সাউন্ডস্টেজে এর শুটিং করেছিল। তবে পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ২০০৪ সালে এই শহরের প্রাচীন অংশে ‘রিকস ক্যাফে’ নামে একটি থিম রেস্তোরাঁ চালু করা হয়। ভৌগোলিক বিচারে ক্যাসাব্লাঙ্কা ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রান্তে অবস্থিত হলেও এর চারপাশের মরক্কোর অভ্যন্তরীণ অংশ চরম শুষ্ক মরুভূমি। ফলে শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অবকাঠামো এটিকে একটি মরুশহর হিসেবে বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে।
৪. বাগদাদ, ইরাক
৭৬২ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম তীরে প্রায় দুই মাইল ব্যাসের একটি পরিকল্পিত বৃত্তাকার শহর হিসেবে বাগদাদ প্রতিষ্ঠা করেন। নবম শতাব্দীতে এটি সম্ভবত পৃথিবীর বৃহত্তম শহর এবং ইসলামি স্বর্ণযুগের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র ছিল। এখানকার বিখ্যাত ‘হাউজ অব উইজডম’ বা বাইত আল হিকমা ছিল একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও অনুবাদ কেন্দ্র। এখানে প্রাচীন গ্রিক দর্শনের বহু পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং বীজগণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মৌলিক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের বাগদাদ আক্রমণের সময় এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে, মঙ্গোলদের ফেলে দেওয়া পাণ্ডুলিপির কালিতে টাইগ্রিস নদীর পানি কালো হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বাগদাদের জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ এবং এটি কায়রোর পর আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। কয়েক দশকের যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন দখলের পর শহরটি এখন ধীরে ধীরে নিজেকে পুনর্গঠন করছে।
৫. দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
মাত্র দুই প্রজন্মের ব্যবধানে প্রায় শূন্য থেকে নিজেকে পারস্য উপসাগরের আর্থিক রাজধানীতে রূপান্তর করেছে দুবাই। বর্তমানে এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ। ২ হাজার ৭১৭ ফুট উচ্চতার বুর্জ খলিফা ২০১০ সাল থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে। পাম জুমেইরাহ হলো তালগাছের আকৃতিতে তৈরি একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম দ্বীপ, যা এই শহরের উপকূল রেখাকে দ্বিগুণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ডিএক্সবি) বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত কেন্দ্র এবং ২০১৪ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াতের দিক থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দুবাইকে শুধু তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র ভাবা এখন একটি পুরনো ধারণা। বর্তমানে আমিরাতের জিডিপিতে তেলের অবদান মাত্র ১ শতাংশের কম। এর মূল অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় পর্যটন, অর্থায়ন, রিয়েল এস্টেট এবং বিমান চলাচল খাতের মাধ্যমে।
৬. ফিনিক্স, অ্যারিজোনা
মধ্য অ্যারিজোনার সোনোরান মরুভূমিতে অবস্থিত ফিনিক্স যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জনবহুল শহর। মূল শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১৬.৫ লাখ এবং মহানগর এলাকায় প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ লাখ মানুষ বাস করেন। ১৮৬৭ সালে প্রাচীন হোহোকাম খালের ধ্বংসাবশেষের ওপর এই শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। হোহোকাম জনগোষ্ঠী প্রায় ৬০০ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই উপত্যকায় সেচব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যা পরে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে পরিত্যক্ত হয়। বিংশ শতাব্দীতে ফিনিক্সের অর্থনীতি পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি পায় যা তুলা, গবাদি পশু, লেবুজাতীয় ফল, তামা এবং জলবায়ু নামে পরিচিত। বর্তমান শহরের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আবাসন সুবিধা। ১৯৯০ সালের ২৬ জুন এখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড ১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছুঁয়েছিল। সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালগুলোয় শহরটিতে টানা ৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তাপমাত্রা ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিড এবং বহিরঙ্গন শ্রমিকদের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
৭. লিমা, পেরু
লিমা হলো কায়রোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মরুশহর এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় শুষ্কতম রাজধানী। অ্যান্দিজ পর্বতমালার সামনে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত এই শহরের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত মাত্র সাত মিলিমিটার। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক অমেরুদেশীয় মরুভূমি আটাকামার উত্তর প্রান্তে এবং শীতল হামবোল্ট স্রোতের প্রভাবে এখানে এই চরম শুষ্কতার সৃষ্টি হয়েছে। ১৫৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্কোস হলো আমেরিকার মহাদেশের সবচেয়ে পুরনো সচল বিশ্ববিদ্যালয়। লিমা পেরুর রাজধানী ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। গত ২০ বছরে শেফ গ্যাস্টন আকুরিও এবং লিমার চমৎকার রন্ধনশৈলীর কারণে শহরটি বিশ্বের খাদ্য সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের সেরা ৫০টি রেস্তোরাঁর তালিকায় লিমার তিনটি রেস্তোরাঁ স্থান করে নিয়েছে।
৮. তেহরান, ইরান
আলবোর্জ পর্বতমালার দক্ষিণের পাদদেশে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ফুট উচ্চতায় তেহরান শহরটি অবস্থিত। এখান থেকে বরফাবৃত ১৮ হাজার ৪০৬ ফুট উঁচু দামাভান্দ পর্বতটি দৃশ্যমান হয়। মূল শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ এবং মহানগর এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৬ কোটি মানুষ বাস করেন, যা একে পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শহরে পরিণত করেছে। এখানকার জলবায়ু শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক প্রকৃতির। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ, গরম ও শুষ্ক এবং শীতকালে বরফপাত হয়। এখানকার জাতীয় রত্ন জাদুঘরে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রত্ন ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে দরিয়া ই নূর নামের গোলাপি হীরা এবং ময়ূর সিংহাসন অন্যতম। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত গোলেস্তান প্রাসাদটি শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে অবস্থিত, যা ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর কাজার রাজপরিবারের বাসস্থান ছিল।
৯. কায়রো, মিসর
বৃহত্তর কায়রো আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার বৃহত্তম শহর। নীল নদের উভয় তীর জুড়ে বিস্তৃত এই মহানগরীর জনসংখ্যা প্রায় ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৩ কোটি। শহরটি পশ্চিমে গিজার পিরামিড থেকে শুরু করে পূর্বে মরুভূমির প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতিমীয় খিলাফতের আমলে এই শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এই অঞ্চলে মানববসতির ইতিহাস প্রাচীন মেমফিস শহর (প্রতিষ্ঠা আনুমানিক ৩১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) হয়ে প্রাক রাজবংশীয় মিসর পর্যন্ত বিস্তৃত। কায়রো থেকে ৯ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত গিজার পিরামিডগুলো প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র নিদর্শন যা আজও টিকে আছে। তাহরির স্কয়ারের মিসরীয় জাদুঘরে প্রাচীন মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া গিজা মালভূমির কাছে নির্মিত ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন বর্গফুটের বিশাল গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামটি ২০২৪ সাল থেকে ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানবাহনের কারণে কায়রোর যানজট এবং বায়ুদূষণ অত্যন্ত তীব্র।
১০. লাস ভেগাস, নেভাদা
মহাভে মরুভূমিতে প্রায় ২ হাজার ৩০ ফুট উচ্চতায় লাস ভেগাস শহরটি অবস্থিত। মূল শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার হলেও এর মহানগর এলাকার জনসংখ্যা ২৩ লাখ। ১৯০৫ সালে ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলপথের একটি শহর হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৩১ সালে নেভাদায় জুয়া খেলা বৈধ করা হয় এবং ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে আধুনিক ক্যাসিনো স্ট্রিপের বিকাশ ঘটে। লাস ভেগাস স্ট্রিপটি মূলত মূল লাস ভেগাস শহরের সীমানার বাইরে আনইনকরপোরেটেড ক্লার্ক কাউন্টিতে অবস্থিত, যে কারণে বিখ্যাত ‘ওয়েলকাম টু ফ্যাবুলাস লাস ভেগাস’ সাইনবোর্ডটি সিটি হল থেকে চার মাইল দক্ষিণে বসানো হয়েছে। এই শহরের মূল অর্থনীতি হোটেল ও ক্যাসিনো শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের ২৫টি বৃহত্তম হোটেলের মধ্যে ১৭টিই এই স্ট্রিপ বা তার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। এই শহরের পানির প্রধান উৎস লেক মিড, যার পানির স্তর গত এক দশক ধরে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তবে লাস ভেগাস কর্তৃপক্ষ পানি সংরক্ষণে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। জনসংখ্যা তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বর্তমানের মাথাপিছু পানি ব্যবহারের পরিমাণ ১৯৯০-এর দশকের চেয়ে অনেক কম।
প্রকৃতির বৈরিতা জয় করে মানুষের এই যে টিকে থাকার লড়াই তা প্রতিটি মরু শহরের পরতে পরতে মিশে আছে। তবে আগামীর দিনগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই শহরগুলো কীভাবে টিকে থাকে তাই হবে দেখার বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত এই ১০টি শহরই মরুভূমির বুকে মানুষের সবচেয়ে সফল পদচিহ্ন হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
সূত্র : ওয়ার্ল্ড এটলাস
















