ভেঙে পড়েছে সেতু তবুও চলছে গাড়ি

ভাঙা সেতু কিন্তু থামছে না যান চলাচল। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
গ্রিসের থেসালি অঞ্চলের একটি সেতু ধসে পড়েছে তিন বছর আগে। সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচলও নিষিদ্ধ। কিন্তু এত কিছুর পরও থামেনি গাড়ি চলাচল। বরং ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ভাঙা সেতু পার হচ্ছেন স্থানীয় কিছু মোটরচালক।
সেতুটির নাম পালাইওপিরগোস। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিস, বুলগেরিয়া ও তুরস্কে আঘাত হানে ভয়াবহ ঝড় ড্যানিয়েল। প্রবল বৃষ্টি আর বন্যায় প্রাণ হারান বহু মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি হয় কোটি কোটি ডলারের। ভয়াবহ সেই বন্যায় গ্রিসের থেসালি অঞ্চলের ৭৯টি সেতু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেগুলোর একটি পালাইওপিরগোস সেতু।
বন্যার পানির তোড়ে সেতুটির মাঝের অংশ দেবে যায় এবং একপর্যায়ে ধসে পড়ে। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেখানে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা ভিন্ন।
সেতুটির মাঝের অংশ এখন এমনভাবে নিচে নেমে গেছে যে, সেটি অনেকটা পানির ওপর ঝুলে থাকা একটি ভাঙা পথের মতো দেখায়। নিচ দিয়ে বয়ে গেছে পিনিওস নদী। দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যায়, এই সেতু দিয়ে গাড়ি চালানো কতটা বিপজ্জনক। তারপরও স্থানীয় অনেক চালক ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন।
সম্প্রতি লারিসানেট ডেইলি নিউজপেপারের ড্রোন ক্যামেরায় এমনই এক দৃশ্য ধরা পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ফোর্ড রেঞ্জার ধীরে ধীরে ভেঙে পড়া সেতুর ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কোথাও সেতুর অংশ নিচু, কোথাও আবার ভাঙা তবু চালক বেশ সতর্কভাবে গাড়িটি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর পেছনে মূল কারণ সময় ও জ্বালানি বাঁচানো। সেতুটি এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে হলে অনেকটা ঘুরতে হয়। এতে বাড়ে পথের দূরত্ব, সময় এবং গাড়ির জ্বালানি খরচ। তাই কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ঝুঁকিপূর্ণ পথটি বেছে নিচ্ছেন।
বিষয়টি আরও অদ্ভুত হয়ে ওঠে পর্যটকদের ক্ষেত্রে। অভিযোগ আছে, অনেক সময় পর্যটকদেরও ভুল করে এই ভাঙা সেতুর দিকে পাঠানো হয়। সামনে গিয়ে সতর্কবার্তা দেখে তারা বাধ্য হন ফিরে আসতে। আর যারা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন, তাদের সামনে অপেক্ষা করে আরও বড় ঝুঁকি।
তিন বছর আগে ধসে পড়া একটি সেতু এখনো যেন স্থানীয় মানুষের কাছে একটি চলাচলের পথ। তবে পথটি কতটা বিপজ্জনক, তার প্রমাণ সেতুটির ভাঙা শরীরই।







