কুকুরের সমান কাঁকড়া বিছা, শিকার করত জলেও!

প্রতীকী ছবি
কাঁকড়া বিছা অনেকের কাছেই আতংকের এক প্রতিশব্দ। ভাবুন তো, যদি সেই কাঁকড়া বিছার আকার হয় একটি মাঝারি আকারের কুকুরের সমান?
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমনই এক বিশালাকার প্রাগৈতিহাসিক কাঁকড়া বিছার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
গবেষকদের মতে, প্রেয়ারক্টুরাস গিগাস নামের এই প্রাণীটিই হতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্করপিয়ন।
প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে পৃথিবীর জলাভূমি ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় ঘুরে বেড়াত এই দৈত্যাকার প্রাণী। তখন পৃথিবীর স্থলভাগ আজকের মতো প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল না। ছোট ছোট উদ্ভিদ ও ছত্রাক ছাড়া স্থলে তেমন কিছুই ছিল না। মানুষের, স্তন্যপায়ী প্রাণীর, এমনকি সরীসৃপ ও পাখির পূর্বপুরুষেরাও তখনো পুরোপুরি স্থলজীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি।
১৫০ বছরের রহস্যের সমাধান
প্রেয়ারক্টুরাস গিগাসের জীবাশ্ম প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৭০ সালে যুক্তরাজ্যে। তবে এটি আসলে কী ধরনের প্রাণী ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা আধুনিক সিটি স্ক্যান, উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি এবং অন্যান্য জীবাশ্মের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি সত্যিই একটি বিছা বা স্করপিয়ন।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ছিল এক মিটারেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩.৩ ফুট। এর চিমটা বা পাঞ্জার দৈর্ঘ্যই ছিল প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পৃথিবীতে বসবাসকারী অনেক কাঁকড়া বিছার পুরো শরীরের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বড় ছিল এর একটি চিমটা।
গবেষকদের মতে, সে সময় স্থলভাগে বড় কোনো শিকারি প্রাণী না থাকায় প্রেয়ারক্টুরাস গিগাস সহজেই তার পরিবেশের শীর্ষ শিকারিতে পরিণত হয়েছিল।
জলেও শিকার করত এই দৈত্য
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, কাঁকড়া বিছা হলেও প্রাণীটি জীবনের একটি বড় অংশ পানিতেও কাটাত। এর দেহে এমন কিছু গঠন পাওয়া গেছে, যা আধুনিক লবস্টার ও কাঁকড়ার শরীরের অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত দেয় যে এটি জল ও স্থল—উভয় পরিবেশেই চলাচল ও শিকার করতে পারত।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, এর পায়ের কিছু অংশের গঠন ছিল খাঁজযুক্ত, যা ঘর্ষণের মাধ্যমে শব্দ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘স্ট্রিডুলেশন’।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রেয়ারক্টুরাস গিগাস শুধু একটি বিশাল বিছাই নয়; এটি পৃথিবীতে প্রাণের বিবর্তনের ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। বিশেষ করে সেই সময়ের, যখন প্রাণীরা ধীরে ধীরে সমুদ্র ছেড়ে স্থলভাগে নিজেদের নতুন আবাস গড়ে তুলছিল। তাই এই আবিষ্কার আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে পৃথিবীর প্রায় হারিয়ে যাওয়া এক বিস্ময়কর অধ্যায়ের দরজা।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট ডট কম







