আরটির বিশ্লেষণ
অস্ত্রের বল বাড়াচ্ছে শান্তিকামী জাপান, সিঁদুরে মেঘ দেখছে চীন

গত ৭ জুন গোটেম্বায় ইস্ট ফুজি ম্যানুভার এলাকায় জাপানের গ্রাউন্ড সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া। ছবি: সংগৃহীত
শান্তির কথা বলে আসা জাপান এবার বাড়াচ্ছে সামরিক শক্তি। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও সামরিক প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে দেশটি। এতে বদলে যাচ্ছে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি। টোকিওর এই পরিবর্তনে পড়ছে প্রভাব পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও। আর তাতেই উদ্বিগ্ন চীন।
আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত হয় জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ শ্বেতপত্র। সেখানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে সামরিক আধুনিকায়নকে এখন আরও বিস্তৃত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ দিচ্ছে জাপান। এর ফলে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় পরিসর ঘিরে বদলে যাচ্ছে কৌশলগত পরিস্থিতিও।
শুধু জাপানের ভূখণ্ডে হামলা প্রতিহত করাই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য নয়। প্রয়োজনে জাপানের ভূখণ্ডের অনেক দূরে গিয়েও সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে হামলা চালানোর।
জাপানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুতর ও জটিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে শ্বেতপত্রে। এতে তুলে ধরা হয়েছে জাপানের জলসীমার কাছে চীনের সামরিক তৎপরতা, তাইওয়ান ইস্যু, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং চীন, রাশিয়াসহ উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক সমন্বয়ের কথা।
তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাপান দ্রুত সংশোধন করছে তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নথি। এগুলো হলো— জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি।
এতে ২০২২ সালের পর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া উদ্যোগকে রূপ দেওয়া হচ্ছে আরও সমন্বিত ব্যবস্থায়।
এ পরিবর্তনের দুটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, গোয়েন্দা ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পুনর্গঠন। দ্বিতীয়ত, সক্ষমতা কার্যকর করা দূরবর্তী পাল্টা হামলার। এর মাধ্যমে জাপান তাদের প্রচলিত প্রতিরক্ষামূলক সীমারেখার সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে অনেক বাইরে পর্যন্ত।
নতুন যুগে নতুন গোয়েন্দা কাঠামো
জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ হলো ৩১ জুলাই জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো গঠন। এটি গঠন করা হয়েছে আগে থাকা ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিসকে উন্নীত করে। নতুন ব্যুরো একত্র করবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্য। এতে কাজ করবেন প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের সচিবালয় হিসেবেও কাজ করবে এই ব্যুরো।
জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিচ্ছিন্ন কাঠামোর বদলে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে কাজ করবে নতুন প্রতিষ্ঠানটি।
এর পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে স্যাটেলাইট ও সমুদ্র নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সক্ষমতা। এবারের পুনর্গঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড ব্যবস্থাও। শ্বেতপত্রে কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে রাখা হয়েছে সাতটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে।
জাপান এমন একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলছে, যেখানে কূটনীতি, গোয়েন্দা তথ্য, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির পাশাপাশি একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে সামরিক সক্ষমতাকেও।
আলোচনায় আছে গোয়েন্দাবৃত্তি প্রতিরোধে নতুন আইন এবং আলাদা একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের বিষয়ও। সব মিলিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি নীতি ও সামরিক পরিকল্পনাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার দিকেই এগোচ্ছে জাপান।
পাল্টা হামলার সক্ষমতা ও ‘সেনশু বোয়েই’ নীতি
জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন হলো পাল্টা হামলার সক্ষমতা। শ্বেতপত্রে প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে দূরবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা স্ট্যান্ড-অফ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে। দেশটির দাবি, আগ্রাসন ঠেকাতে পাল্টা হামলার সক্ষমতা জরুরি।
জাপান বলছে, এসব ব্যবস্থা তাদের ‘সেনশু বোয়েই’ বা একান্ত প্রতিরক্ষামূলক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে জাপান এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যার মাধ্যমে কোনো হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে জাপানের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই।
বাস্তবে এটি জাপানের দীর্ঘদিনের সামরিক অবস্থানে আনছে বড় পরিবর্তন। কয়েক দশক ধরে দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি ছিল মূলত ভূখণ্ড রক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং হামলা শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর ওপর নির্ভরশীল। সেই অবস্থান বদলে দিচ্ছে দূরবর্তী অস্ত্র।
জাপান টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পাশাপাশি বাড়াচ্ছে নিজেদের তৈরি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সক্ষমতাও। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজরে আছে টাইপ-২৫ অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি আরও দূর থেকে নৌযানে হামলা চালাতে সক্ষম।
এর পাশাপাশি এগিয়ে চলছে হাইপারসনিক অস্ত্র এবং চালকবিহীন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ। এর মধ্যে আছে আকাশযান, সমুদ্রযান ও পানির নিচে চলাচলকারী যান। এগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে উন্নত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধারণার আওতায়।
এসব সক্ষমতা গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি, কমান্ড ব্যবস্থাসহ দূরপাল্লার হামলাকে নিয়ে আসছে একই কাঠামোর মধ্যে। ফলে জাপানের হাতে তৈরি হচ্ছে আরও পূর্ণাঙ্গ সামরিক কিল চেইন।
আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সক্ষমতা আরও জটিল করে তুলছে চীনের সঙ্গে জাপানের নিরাপত্তা হিসাব। বিশেষ করে এর প্রভাব পড়তে পারে প্রথম দ্বীপমালা ও তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায়। জাপানের ভূখণ্ড এখন শুধু প্রতিরক্ষার জায়গা নয়, বরং দেশের বাইরে দূরবর্তী সামরিক অভিযান পরিচালনা বা সহায়তার ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
অর্থ, সামরিক শিল্প ও কাঠামোগত পরিবর্তন
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অর্থ বরাদ্দও বাড়ছে প্রতিরক্ষা খাতে। জাপান প্রতিরক্ষা ব্যয়কে মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন করছে।
২০২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এবং ওকিনাওয়া-সংক্রান্ত বিশেষ কার্যক্রম ও মার্কিন বাহিনীর পুনর্বিন্যাসের খরচ মিলিয়ে বরাদ্দ ইয়েন ছাড়িয়েছে ৯ ট্রিলিয়ন। এর পরিমাণ প্রায় ৫৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নতুন শ্বেতপত্রে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে। সামরিক বাহিনীর এবারের পুনর্গঠনেও আছে এর প্রতিফলন।
শক্তিশালী করা হচ্ছে যৌথ কমান্ড কাঠামো। অস্ত্র সংগ্রহের সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হচ্ছে আরও ঘনিষ্ঠভাবে। নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোর অংশগ্রহণও উৎসাহিত করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা খাতে।
এপ্রিল মাসে সংশোধন আনা হয়েছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের তিন নীতিতে। এর ফলে শিথিল হয়েছে অস্ত্র রপ্তানির ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ। জাপান এটিকে দেখছে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, মিত্রদের সহায়তা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার উপায় হিসেবে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণসহ আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সরবরাহব্যবস্থাও। জাপান ধীরে ধীরে আরও সক্রিয় অংশ হয়ে উঠছে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প নেটওয়ার্কের।
পারমাণবিক সক্ষমতার সম্ভাবনা ও নীতির পরিবর্তন
পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে জাপানের সরকারি অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশটি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও বারবার বলেছেন, জাপান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখা, তৈরি না করা এবং দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার তিন নীতি মেনে চলছে।
তিনি এই তিন নীতির প্রতি জাপানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন, ৯ আগস্ট নাগাসাকি শান্তি স্মরণ অনুষ্ঠানে। সেদিন ছিল পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী। এর কয়েক দিন আগে হিরোশিতেও তিনি একই অবস্থান জানান।
তবে আলোচনা তৈরি হয়েছে তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে। তিনি বর্তমান নীতি বজায় রাখার কথা বললেও ভবিষ্যতেও এই নীতি অপরিবর্তিত থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।
বিশেষ করে তৃতীয় নীতি, অর্থাৎ জাপানের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছে আলোচনা।
জাপানের উন্নত বেসামরিক পারমাণবিক শিল্প, পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেশটিকে একটি সম্ভাব্য ‘ল্যাটেন্ট নিউক্লিয়ার ক্যাপাবিলিটি’ বা সুপ্ত পারমাণবিক সক্ষমতার ভিত্তি দিয়েছে। অর্থাৎ দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী না হলেও প্রয়োজন হলে তুলনামূলক দ্রুত সেই সক্ষমতার দিকে এগোনোর মতো শিল্প ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে তাদের।
এর অর্থ এই নয় যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। তবে এটি স্পষ্ট যে দেশটির পারমাণবিক নীতির রাজনৈতিক সীমারেখা আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বড় কোনো পরিবর্তন হলে তার আঞ্চলিক প্রভাবও হবে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন বিষয়টি গভীরভাবে দেখছে চীন
জাপানের এই সামরিক পরিবর্তনের বিষয়ে চীন কূটনৈতিক সমালোচনা এবং সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। চীনা কর্মকর্তারা জাপানের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে পুনরায় সামরিকীকরণের দিকে বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে জাপানের দূরবর্তী হামলার সক্ষমতা নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগ বেশি।
জাপানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর আশপাশে চীনের সামুদ্রিক ও সামরিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে চীন ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
তবে চীনের উদ্বেগ শুধু জাপানের সামরিক শক্তির পরিমাণ নিয়ে নয়। বরং আঞ্চলিক একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে জাপানের অবস্থান নিয়েও। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।
জাপানের কৌশলগত নথিতেও প্রশিক্ষণ, সামরিক অভিযান, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে বহুস্তরীয় নেটওয়ার্ক।
ফলে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। জনসংখ্যা, সামরিক ব্যয় ও সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে জাপান এখনো চীনের তুলনায় অনেক ছোট। কিন্তু আগের তুলনায় দেশটি অনেক বেশি সক্ষম, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
চীনের পূর্ব সীমান্ত ঘিরে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। যুদ্ধোত্তর কয়েক দশকের তুলনামূলকভাবে সীমাবদ্ধ সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে বদলে যাচ্ছে জাপানের ভূমিকা। গোয়েন্দা তথ্য, দূরপাল্লার অস্ত্র, সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়ে জাপান এখন নিজের ভূখণ্ডের বাইরে আরও দ্রুত ও দূরবর্তীভাবে ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গেও গভীর হচ্ছে জাপানের সংযোগ। ফলে আরও সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থান জাপান পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্র নতুন করে আঁকছে। আর এই পরিবর্তন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিংও।









