ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প
‘ঘরের ছাদ এমন শব্দ করছিল যেন ভেঙে পড়বে’

বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে আংশিক ভেঙে পড়া ছাদ, ফেটে যাওয়া দেয়াল এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের চিত্র দেখা গেছে
৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি দ্বীপ। আজ স্থানীয় সময় সকালে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের পালু শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই কম্পনের পর সেখানে বেশ কয়েকটি আফটারশক হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকের মাত্রা ৫ দশমিক ২।
ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে আংশিক ভেঙে পড়া ছাদ, ফেটে যাওয়া দেয়াল এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের চিত্র দেখা গেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, সম্ভাব্য হতাহত বা বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলছে।
ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। যদিও বেশ কয়েকটি হাসপাতালের রোগীরা দ্রুত ভবন ছেড়ে বাইরে চলে আসে।
পালু শহরের একটি চার তারকা হোটেলের কর্মকর্তা এফেন্দি নাতালি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, ‘আমরা হোটেল থেকে সব অতিথিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি।’
নাতালি যোগ করেন, তাদের হোটেল সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে রান্না করার সময় ভূমিকম্প টের পান পালু শহরের বাসিন্দা নুর হায়দার। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘হঠাৎ করেই যেন তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করলাম এবং পুরো বাড়িটা কাঁপতে শুরু করল।’
তিনি বলছিলেন, ‘ঘরের ছাদ এমনভাবে শব্দ করছিল যেন এই বুঝি সব ভেঙে পড়বে।’
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারের উপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে নিয়মিতই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১৮ সালে এই পালু শহরেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার পরপরই সৃষ্টি হয় প্রায় ৩ মিটার বা ১০ ফুট উচ্চতার প্রলয়ঙ্করী সুনামি।
ওই সময় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।




