তিন দিক থেকে ইসরায়েলে হামলা

এক দিনেই ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র। দুই বিমানঘাঁটি তছনছ। পুড়ে ছাই পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা। প্রাণ বাঁচাতে পুরো ইসরায়েল ঢুকে পড়েছিল বাংকারে। লেবাননের বর্বর হামলার প্রতিশোধে স্থানীয় সময় গত রবিবার রাত ১০টায় আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। উত্তর ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফা, নেভাতিম ও তেল নোফ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের সঙ্গে যোগ দেয় ইয়েমেন ও লেবানন। ত্রিমুখী হামলার রকেট-ক্ষেপণাস্ত্রে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ইসরায়েল। পরদিন দুপুরে ফের বৈরুতে হামলা চালালে আরও কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে ‘আপাতত হামলা বন্ধ’ ঘোষণা করে ইরান। তাসনিম নিউজ, রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল, আলজাজিরা।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো ইরানের প্রথম দফা হামলা শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সশস্ত্রবাহিনীর অভিযান আপাতত বন্ধ ঘোষণা করে ইরানের সামরিক বাহিনী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে আবারও শুরু করা হবে হামলা।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল। রবিবার রাতে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইরান বলেছে, বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি হামলার জবাব ছিল এটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানকে ‘অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ’ করার আহ্বান জানান।
এপ্রিলের পর এবারই প্রথম ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের চেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে এটি।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা ‘বেদনাদায়ক প্রতিক্রিয়া’ জানিয়েছে। এর মধ্যে রবিবার বৈরুতের উপকণ্ঠে চালানো হামলাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই ‘তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি’ চায়। তিনি লেখেন, ‘শান্তি’ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এগোচ্ছে, যদি না অজ্ঞতা বা বোকামি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।




