আগামীর সময়

জুয়ার বিজ্ঞাপন ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

জুয়ার বিজ্ঞাপন ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিনের জনচাপের মুখে অবশেষে জুয়াসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে নতুন সংস্কার ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তবে এই পদক্ষেপে বিজ্ঞাপনের সময়, স্থান ও অংশগ্রহণকারীদের ওপর নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলেও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। যদিও সেই প্রস্তাবের পক্ষে ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমর্থন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিল শক্তিশালী জুয়া সংস্থা, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো। কারণ তারা রাজস্ব আয়ে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছিল।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু হিসেবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অর্থ জুয়ায় হারায় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা। ইতালি, বেলজিয়াম ও স্পেনের মতো অনেক দেশ জুয়ার বিজ্ঞাপনে সম্পূর্ণ বা প্রায়-সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। অস্ট্রেলিয়াতেও একটি সংসদীয় কমিটি তিন বছর আগে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিল।

আজ বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবেনিজ বলেছেন, এই প্যাকেজের মাধ্যমে তার সরকার ‘সঠিক ভারসাম্য’ রক্ষা করেছে। প্রাপ্তবয়স্করা যদি চান তাহলে জুয়া খেলতে পারেন। কিন্তু আমাদের শিশুরা যেন তারা যেদিকেই তাকায় সেদিকেই বাজির বিজ্ঞাপন না দেখে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে—

  • সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় টিভিতে সর্বোচ্চ তিনটি জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে
  • একই সময়ের মধ্যে সরাসরি সম্প্রচারিত খেলাধুলায় জুয়া বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে
  • স্কুলে যাওয়া-আসার সময় রেডিওতে জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ থাকবে
  • জুয়া বিজ্ঞাপনে কোনো সেলিব্রিটি বা ক্রীড়াবিদ অংশ নিতে পারবেন না
  • অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লগইন ছাড়া, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য জুয়া বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অপ্ট-আউটের সুযোগ রাখতে হবে
  • ক্রীড়া ভেন্যু ও খেলোয়াড়দের পোশাকে জুয়া বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে

এছাড়া অবৈধ বিদেশি জুয়া ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেনোসহ কিছু অনলাইন জুয়ার ধরন নিষিদ্ধ করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জুয়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা। জুয়া সংস্থাগুলোর শীর্ষ সংগঠন রেসপনসিবল ওয়াজেরিং অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন পদক্ষেপ ‘অতিমাত্রায় কঠোর’ এবং ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কাই ক্যান্টওয়েল সতর্ক করে বলেন, আজ জুয়া বিজ্ঞাপন, কাল হয়তো অ্যালকোহল বা ফাস্টফুড—এভাবে একের পর এক খাতে নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এই খাতকে অন্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই খাতে ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত এবং এটি খেলাধুলা, দৌড় ও সম্প্রচার শিল্পে জরুরি অর্থায়ন দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম জুয়া সংস্থাগুলোর একটি স্পোর্টসবেটের মুখপাত্র বলেছেন, অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধের ফলে মানুষ অবৈধ বিদেশি জুয়ার সাইটের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। জুয়ার বিজ্ঞাপনে সমাজের পরিবর্তিত মনোভাব স্পোর্টসবেট স্বীকার করে এবং ইতোিমধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, পরিবর্তনের পক্ষে যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন, তারাও অসন্তুষ্ট। তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। জুয়া সংস্কার আন্দোলনের নেতা টিম কস্টেলো বলেছেন, কল্পনা করুন এক ঘণ্টায় তিনটি সিগারেটের বিজ্ঞাপন। অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।
তিনি অ্যালায়েন্স ফর গ্যাম্বলিং রিফর্ম অনলাইন ও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপনের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং একটি জাতীয় শিল্প নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

একইভাবে অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলিয়ান রেইট জানান, আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় না। তার মতে, পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের জুয়া বিজ্ঞাপনের প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

সূত্র: বিবিসি

    শেয়ার করুন: