ইতালির এটনা পর্বতে বজ্রপাতে মার্কিন পর্যটকের মৃত্যু

এটনা পর্বতে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মার্কিন পর্যটকের। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির সিসিলি দ্বীপের এটনা পর্বতে ভ্রমণের সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ বছরের এক মার্কিন পর্যটকের। রবিবার সন্ধ্যায় পর্বতের গাছপালার সীমা ছাড়িয়ে ওপরের দিকে ওঠার সময় বজ্রঝড়ের কবলে পড়েন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ইতালির দমকল বাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
নিহত ওই পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। তার পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটনা পর্বতের একটি নিষিদ্ধ এলাকায় ছিলেন ওই পর্যটক। আগ্নেয়গিরিটির চূড়ার আরও কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে জরুরি উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তাকে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে কাতানিয়ার কানিজারো হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। ওই রাতেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইউরোপের সর্বোচ্চ এবং বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এটনা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়গিরিটির লাভা প্রবাহ ও ছাই নির্গমনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পূর্ব সিসিলির বিমান চলাচল। একই কারণে এটনার ওপরের ঢালে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইতালির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, এটনা পর্বতের উচ্চ এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গাছপালার সীমার ওপর আশ্রয়ের সুযোগও খুব কম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই উচ্চ পর্বত এলাকায় পৌঁছানো যায় বলে আবহাওয়ারও দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ঠান্ডা বায়ুর সংঘর্ষে সেখানে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও বজ্রঝড় একসঙ্গে পর্বতারোহীদের জন্য তৈরি করতে পারে বড় ঝুঁকি।
প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ পর্যটক এটনা পর্বতে ভ্রমণ করেন। ঘন ঘন অগ্ন্যুৎপাত হলেও এটি ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সম্প্রতি আগ্নেয়গিরিটির ছাইয়ের কারণে কাতানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর বিমান চলাচলের সতর্কতা সর্বোচ্চ লাল স্তর থেকে কমিয়ে কমলা স্তরে নামানো হয়েছে।
ইটনা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের গবেষক বরিস বেনকে আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের ঝুঁকি তুলে ধরে বলেন, ‘আগ্নেয়গিরির ছাই উড়োজাহাজের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে ঢুকে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে পারে। এ কারণেই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই নির্গত হলে উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সবাই এত সতর্ক থাকে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এটনা পর্বতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এটনায় অগ্ন্যুৎপাতজনিত সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালে।







