Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
পথশিশুদের জন্য ওমর ফারুকের ১২ বছরের লড়াই
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় যুক্তরাষ্ট্র

নিউ মেক্সিকো থেকে নিউইয়র্ক

আমেরিকার ৫০ অঙ্গরাজ্যের জন্ম হয়েছিলো যেভাবে

ইরফান রহমান
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০১
আমেরিকার ৫০ অঙ্গরাজ্যের জন্ম হয়েছিলো যেভাবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

১৪৯২ সাল। আটলান্টিকের উত্তাল জলরাশি পেরিয়ে অজানার সন্ধানে এগিয়ে চলেছে জেনোয়ায় জন্ম নেওয়া নাবিক ও সমুদ্র অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাসের জাহাজ। স্পেনের রাজা-রানির পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা। লক্ষ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর নতুন পথ। একসময় সামনে দেখা দিল ভূখণ্ড। কলম্বাস ভাবলেন, এশিয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। অথচ তাঁর অজান্তেই খুলে যাচ্ছে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ইউরোপের চেনা মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে এক বিস্ময়কর ভূখণ্ড।

কিন্তু ইতিহাসের কী বিচিত্র পরিহাস! যে কলম্বাসের অভিযানে ইউরোপীয়দের সামনে নতুন পৃথিবীর দুয়ার খুলে গেল, সেই ভূখণ্ডের নামকরণ হলো অন্য এক অভিযাত্রীর নামে। তিনি ইতালীয় নাবিক ও অভিযাত্রী আমেরিগো ভেসপুচি। কলম্বাসের অভিযানের পর আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে তিনিও পৌঁছেছিলেন আমেরিকার উপকূলে। তার সমুদ্রযাত্রার বিবরণ থেকে জোরালো হয় নতুন এক ধারণা। এশিয়া নয়, ইউরোপীয়দের অজানা এক পৃথক মহাদেশের অস্তিত্ব রয়েছে সেখানে। সেই ধারণাকে গুরুত্ব দিয়েই ১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকার মার্টিন ভাল্ডজেমুলার নিজের বিশ্বমানচিত্রে দক্ষিণ আমেরিকার ভূখণ্ডের নাম লিখলেন ‘আমেরিকা’। ভেসপুচির সম্মানে। সেই নামই পরে ছড়িয়ে পড়ল দুই আমেরিকা মহাদেশে।

তারপর পেরিয়েছে পাঁচ শতাব্দীর বেশি। বদলেছে সাম্রাজ্য। ভেঙেছে রাজত্ব। জন্ম নিয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র। বারবার নতুন করে আঁকা হয়েছে সীমানা। কিন্তু মানচিত্রের নামগুলোয় আজও বেঁচে আছে রাজা-রানির স্মৃতি, আদিবাসীদের ভাষা, পাহাড়-নদীর পরিচয় আর উপনিবেশ দখলের ইতিহাস।

সেই নামের ইতিহাসেই পুরোনো বিতর্ক ফের উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখতে চান তিনি। অথচ যে নাম মুছে দিতে চাইছেন, তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেরও বহু আগে। তবে কি নাম বদলালেই বদলে যায় ইতিহাস? নাকি প্রতিটি নামের আড়ালে থেকে যায় এমন এক অতীত, যা কোনো নতুন মানচিত্র দিয়েও মুছে ফেলা যায় না?

গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন পরিবর্তিত নামের মানচিত্রও। এরপর সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবার একই দাবি তোলেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘অবিলম্বে নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে নিউ আমেরিকা রাখা উচিত। আমরা মেক্সিকো নই, আমরা যুক্তরাষ্ট্র।’ তাঁর দাবি, নাম পাল্টালে অঙ্গরাজ্যটির মর্যাদা বাড়বে। বাড়বে মানুষের আয় ও বাড়ির মূল্যও। তবে ট্রাম্পের দাবির পক্ষে অর্থনৈতিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নাম পরিবর্তনের বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে সামনে এসেছে ইতিহাসের পুরোনো প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নাম এল কোথা থেকে? কে রেখেছিলেন এসব নাম? কোন রাজা বা প্রেসিডেন্টের আমলে নামকরণ হয়েছিল? আদৌ কি কখনও কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলেছে?

উত্তর খুঁজতে ফিরতে হবে কয়েক শতাব্দী পেছনে।

নিউ মেক্সিকো কি মেক্সিকোর নামে?

নিউ মেক্সিকোর ইতিহাস ট্রাম্পের যুক্তির চেয়ে অনেক পুরোনো। ষোড়শ শতাব্দীতেই স্পেনীয় অভিযাত্রীরা অঞ্চলটিকে ‘নুয়েভো মেক্সিকো’ বলতে শুরু করেন। তখন স্বাধীন মেক্সিকো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই ছিল না। মেক্সিকো স্বাধীন হয় ১৮২১ সালে।

অ্যাজটেক সভ্যতার মেশিকা জনগোষ্ঠী এবং মেক্সিকো উপত্যকা সম্পর্কে স্পেনীয়দের ধারণার সঙ্গে অঞ্চলটির নামকরণের সম্পর্ক ছিল। তবে ‘মেক্সিকো’ শব্দটির মূল অর্থ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মতভেদ রয়েছে।

১৫৯৮ সালে স্পেনীয় অভিযাত্রী হুয়ান দে ওনিয়াতে বর্তমান নিউ মেক্সিকো অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তারও বহু আগে সেখানে পুয়েবলোসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তাঁদের নিজস্ব নগর, কৃষিব্যবস্থা ও সংস্কৃতি ছিল।

১৮২১ সালে স্পেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর অঞ্চলটি মেক্সিকোর অংশ হয়। ১৮৪৬ থেকে ১৮৪৮ সালের মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর পাল্টে যায় তার রাজনৈতিক পরিচয়। ১৮৪৮ সালের গুয়াদালুপে হিদালগো চুক্তিতে অঞ্চলটির বৃহত্তর অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারে আসে। পরে ১৮৫৩ সালের গ্যাডসডেন ক্রয়চুক্তিতে বর্তমান নিউ মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কিছু ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করে ওয়াশিংটন। চুক্তিটি চূড়ান্ত হয় ১৮৫৪ সালে।

প্রেসিডেন্ট মিলার্ড ফিলমোরের আমলে ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৫০ সালে নিউ মেক্সিকো ভূখণ্ড গঠিত হয়। এরও ৬২ বছর পর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফটের শাসনামলে ৬ জানুয়ারি ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম অঙ্গরাজ্য হয় নিউ মেক্সিকো। নামটি তখনও অপরিবর্তিত থাকে।

অর্থাৎ স্বাধীন মেক্সিকো রাষ্ট্রের জন্মের পর তার নাম অনুসরণ করে নিউ মেক্সিকোর নাম রাখা হয়েছিল, এমন ধারণা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।

কীভাবে নাম পেল ৫০ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আদিবাসীবিষয়ক ব্যুরো, মার্কিন কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নথি, লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সরকারি দলিল থেকে নামকরণের বিচিত্র ইতিহাস পাওয়া যায়।

অনেক অঙ্গরাজ্যের নামের শিকড় আদিবাসী ভাষায়। বাকিগুলোর বড় অংশ এসেছে ইংরেজি, স্পেনীয়, ফরাসি ও অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষা থেকে। তবে কয়েকটি নামের আদি অর্থ নিয়ে এখনও ঐতিহাসিকদের মতভেদ রয়েছে।

আলাবামা: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্মৃতি

ক্রিক সংঘের আলাবামা বা আলিবামন জনগোষ্ঠীর নাম থেকে এসেছে আলাবামা। প্রথমে নামটি ছিল একটি নদীর। পরে ভূখণ্ডের পরিচয় হয়ে ওঠে। শব্দটির মূল অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর আমলে ১৪ ডিসেম্বর ১৮১৯ সালে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা পায় আলাবামা।

আলাস্কা: সমুদ্রের ওপারের মূল ভূখণ্ড

আলেউত জনগোষ্ঠীর ভাষার একটি শব্দ থেকে আলাস্কার নাম। অর্থ মূল ভূখণ্ড বা উপদ্বীপ বলে ব্যাখ্যা করা হয়। ১৮৬৭ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের শাসনামলে রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লাখ ডলারে অঞ্চলটি কেনে যুক্তরাষ্ট্র। ৩ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ারের আমলে এটি ৪৯তম অঙ্গরাজ্য হয়।

অ্যারিজোনা: ছোট ঝরনা, নাকি ওকগাছ

অ্যারিজোনা নামের উৎস নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে, আদিবাসী তোহোনো ওওধাম ভাষায় এর অর্থ ছোট ঝরনার স্থান। অন্যদের ধারণা, বাস্ক ভাষার ওকগাছ-সংক্রান্ত শব্দ থেকে নামটি এসেছে। প্রেসিডেন্ট টাফটের আমলে ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১২ সালে অঙ্গরাজ্য হয় অ্যারিজোনা।

আরকানসাস: উচ্চারণ নিয়ে আইন


কোয়াপাও আদিবাসীদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ ফরাসি অভিযাত্রীদের লেখায় আরকানসাস হয়ে ওঠে। ১৫ জুন ১৮৩৬ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় এটি। উচ্চারণ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর ১৮৮১ সালে আইনসভা সরকারি উচ্চারণ নির্ধারণ করে। শেষের অক্ষরটি উচ্চারিত হয় না। এটি নাম পরিবর্তন নয়।

ক্যালিফোর্নিয়া: উপন্যাসের কল্পিত দ্বীপ


একটি কাল্পনিক রাজ্যের নাম থেকে বাস্তব ভূখণ্ডের নাম! ১৫১০ সালে প্রকাশিত স্পেনীয় লেখক গার্সি রদ্রিগেস দে মন্তালভোর উপন্যাসে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া নামের এক দ্বীপ। সেখানে শাসন করতেন রানি কালাফিয়া। স্পেনীয় অভিযাত্রীরা পরে নামটি বাস্তব ভূখণ্ডে ব্যবহার করেন। ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৫০ সালে প্রেসিডেন্ট মিলার্ড ফিলমোরের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় ক্যালিফোর্নিয়া।

কলোরাডো: লাল মাটি, লাল নদী

স্পেনীয় ভাষায় কলোরাডো অর্থ লালচে বা রঙিন। নদীর ঘোলাটে লাল পানি ও পাথুরে ভূমির সঙ্গে নামটির সম্পর্ক রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৬১ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানানের আমলে কলোরাডো ভূখণ্ড গঠিত হয়। ১ আগস্ট ১৮৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস গ্রান্টের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয় এটি।

কানেকটিকাট: দীর্ঘ নদীর দেশ

মোহেগান ও সংশ্লিষ্ট আদিবাসী ভাষার শব্দ থেকে কানেকটিকাট। প্রচলিত ব্যাখ্যায় এর অর্থ দীর্ঘ জোয়ারভাটার নদী। ইউরোপীয় বসতি স্থাপনের আগেই নামটির ব্যবহার ছিল। ৯ জানুয়ারি ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে বর্তমান ইউনিয়নে যুক্ত হয় কানেকটিকাট।

ডেলাওয়্যার: ইংরেজ অভিজাতের নাম


থমাস ওয়েস্ট, তৃতীয় ব্যারন ডে লা ওয়ারের নাম থেকে ডেলাওয়্যার। তিনি সপ্তদশ শতকের গোড়ায় ভার্জিনিয়ার ঔপনিবেশিক গভর্নর ছিলেন। প্রথমে নদী ও উপসাগরের নাম হয় ডেলাওয়্যার। পরে ভূখণ্ডটি একই পরিচয় নেয়। ৭ ডিসেম্বর ১৭৮৭ সালে প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে ডেলাওয়্যার।

ফ্লোরিডা: ফুল আর ইস্টারের স্মৃতি

স্পেনীয় অভিযাত্রী হুয়ান পন্সে দে লেওন ১৫১৩ সালের এপ্রিলে অঞ্চলটিতে পৌঁছান। স্পেনীয় ভাষায় ফ্লোরিডা অর্থ ফুলেল। নামটি ইস্টারের উৎসব ‘পাসকুয়া ফ্লোরিডা’র সঙ্গেও যুক্ত। তখন স্পেনের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় ফের্দিনান্দ। প্রেসিডেন্ট জন টাইলারের আমলে ৩ মার্চ ১৮৪৫ সালে অঙ্গরাজ্য হয় ফ্লোরিডা।

জর্জিয়া: দ্বিতীয় জর্জের রাজকীয় ছাপ

ব্রিটিশ রাজা দ্বিতীয় জর্জের নামেই জর্জিয়া। ১৭৩২ সালে তাঁর দেওয়া রাজকীয় সনদের মাধ্যমে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার অনুমতি পান জেমস ওগলথর্পসহ উদ্যোক্তারা। স্বাধীনতার পরও রাজকীয় নামটি বদলায়নি। ২ জানুয়ারি ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে জর্জিয়া।

হাওয়াই: প্রশান্ত মহাসাগরের নিজস্ব পরিচয়

হাওয়াই নামের উৎস পলিনেশীয় ভাষা ও ঐতিহ্যে। প্রাচীন আদি বাসভূমি ‘হাওয়াইকি’র সঙ্গে নামটির সম্পর্ক থাকতে পারে। ১৮১০ সালে রাজা প্রথম কামেহামেহার অধীনে দ্বীপগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৩ সালে রাজতন্ত্র উৎখাতের পর ১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপপুঞ্জটি অধিগ্রহণ করে। ২১ আগস্ট ১৯৫৯ সালে হাওয়াই ৫০তম অঙ্গরাজ্য হয়।

আইডাহো: ভুল ব্যাখ্যা থেকে স্থায়ী নাম

আইডাহো নামের ইতিহাসে রয়েছে অদ্ভুত বিতর্ক। ১৮৬০ সালে জর্জ উইলিং নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, আদিবাসী ভাষায় এর অর্থ পাহাড়ের রত্ন। পরে দাবিটির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রথমে অন্য ভূখণ্ডের জন্য প্রস্তাবিত নামটি শেষ পর্যন্ত আইডাহোয় ব্যবহৃত হয়। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ৪ মার্চ ১৮৬৩ সালে ভূখণ্ড গঠনের আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনের আনুষ্ঠানিক তারিখ ৩ মার্চ। ৩ জুলাই ১৮৯০ সালে অঙ্গরাজ্য হয় আইডাহো।

ইলিনয়: ফরাসি উচ্চারণে আদিবাসী পরিচয়

ইলিনি বা ইলিনিওয়েক জনগোষ্ঠীর নাম ফরাসিদের মাধ্যমে ইলিনয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় ভাষায় শব্দটির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ফরাসিরা নদী ও অঞ্চলটির নামেও শব্দটি ব্যবহার করেন। ৩ ডিসেম্বর ১৮১৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর আমলে অঙ্গরাজ্য হয় ইলিনয়।

ইন্ডিয়ানা: আদিবাসীদের ভূমি

ইন্ডিয়ানা নামের আক্ষরিক অর্থ আদিবাসীদের ভূমি। ইউরোপীয় উপনিবেশকারীরা আমেরিকার স্থানীয় অধিবাসীদের ভুল করে ‘ইন্ডিয়ান’ বলতেন। সেই পরিচয় থেকেই নামটির উৎপত্তি। ১১ ডিসেম্বর ১৮১৬ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয় ইন্ডিয়ানা।

আইওয়া: জনগোষ্ঠী থেকে নদী, নদী থেকে রাজ্য

বাখোয়ে বা আইওয়ে জনগোষ্ঠীর নাম থেকে আইওয়া। প্রতিবেশী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি শব্দ থেকে নামটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়। অর্থ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ফরাসি অভিযাত্রীদের লেখায় শব্দটি নতুন বানান পায়। ২৮ ডিসেম্বর ১৮৪৬ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস পোলকের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় আইওয়া।

কানসাস: বাতাসের মানুষ

কানসা বা কাও জনগোষ্ঠীর নামে কানসাস। প্রচলিত ব্যাখ্যায় অর্থ দক্ষিণা বাতাসের মানুষ। তবে মূল শব্দটির সঠিক অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ১৮৫৪ সালে কানসাস ভূখণ্ড গঠিত হয়। দাসপ্রথা ঘিরে সংঘর্ষের পর ২৯ জানুয়ারি ১৮৬১ সালে প্রেসিডেন্ট বুকানানের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় কানসাস।

কেন্টাকি: নামের অর্থ এখনও রহস্য

কেন্টাকি শব্দের শিকড় আদিবাসী ভাষায়। কারও মতে, অর্থ তৃণভূমি। অন্যদের ব্যাখ্যায় নদীর উৎসভূমি। ‘অন্ধকার ও রক্তাক্ত ভূমি’ অর্থটি জনপ্রিয় হলেও নির্ভরযোগ্য নয়। ভার্জিনিয়া থেকে পৃথক হয়ে ১ জুন ১৭৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় কেন্টাকি।

লুইজিয়ানা: ফরাসি রাজার নামে

ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের নাম থেকে লুইজিয়ানা। অভিযাত্রী রেনে রবার কাভেলিয়ে দে লা সাল ১৬৮২ সালে বিশাল মিসিসিপি অববাহিকাকে রাজার নামে চিহ্নিত করেন। ১৮০৩ সালে প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের আমলে ফ্রান্সের কাছ থেকে বৃহৎ অঞ্চল কেনে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের আমলে ৩০ এপ্রিল ১৮১২ সালে বর্তমান লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য হয়।

মেইন: যে নামের রহস্য কাটেনি

মেইন নামের উৎস নিয়ে এখনও ঐকমত্য নেই। কারও মতে, উপকূলের দ্বীপগুলো থেকে মূল ভূখণ্ড বোঝাতে নামটি ব্যবহৃত হয়। অন্যরা ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডের স্থাননামের সঙ্গে সম্পর্ক খোঁজেন। ১৬২২ সালের নথিতেই নামটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ম্যাসাচুসেটস থেকে পৃথক হয়ে ১৫ মার্চ ১৮২০ সালে প্রেসিডেন্ট মনরোর আমলে অঙ্গরাজ্য হয় মেইন।

মেরিল্যান্ড: রানি হেনরিয়েটা মারিয়ার স্মৃতি

ব্রিটিশ রাজা প্রথম চার্লসের স্ত্রী হেনরিয়েটা মারিয়ার নামে মেরিল্যান্ড। ১৬৩২ সালে প্রথম চার্লস উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সনদ দেন। রাজপরিবারের নামটি স্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রেও বহাল থাকে। ২৮ এপ্রিল ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে মেরিল্যান্ড।

ম্যাসাচুসেটস: মহান পাহাড়ের কাছে

ম্যাসাচুসেটস জনগোষ্ঠীর নাম থেকে অঙ্গরাজ্যটির পরিচয়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় অর্থ মহান পাহাড়ের কাছে। বর্তমান বোস্টনের কাছের ব্লু হিলসের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে ম্যাসাচুসেটস।

মিশিগান: বিশাল জলরাশির নাম

ওজিবওয়ে ভাষার শব্দ থেকে মিশিগান। অর্থ বড় হ্রদ বা বিশাল জলরাশি। গ্রেট লেকস অঞ্চলের ভূগোলই নামটিকে অর্থ দিয়েছে। ২৬ জানুয়ারি ১৮৩৭ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের শেষ মেয়াদে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা পায় মিশিগান।

মিনেসোটা: আকাশের রঙ মেশা পানি

ডাকোটা জনগোষ্ঠীর ‘ম্নি সোতা’ শব্দ থেকে মিনেসোটা। অর্থ আকাশের রঙে রাঙা কিংবা মেঘলা পানি। স্থানীয় নদীর নাম থেকে ভূখণ্ডের পরিচয় তৈরি হয়। ১১ মে ১৮৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানানের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় মিনেসোটা।

মিসিসিপি: মহান নদীর নাম

ওজিবওয়ে ভাষার ‘মিসি জিবি’ শব্দ থেকে মিসিসিপি। অর্থ মহান নদী। ফরাসি অভিযাত্রীরা নামটি নিজেদের বানানে লেখেন। পরে ইংরেজি রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ ডিসেম্বর ১৮১৭ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর আমলে অঙ্গরাজ্য হয় মিসিসিপি।

মিসৌরি: নদীপথের মানুষের স্মৃতি

মিসৌরি জনগোষ্ঠীর নাম থেকে রাজ্যটির পরিচয়। একটি প্রচলিত ব্যাখ্যায় এর অর্থ কাঠের নৌকাবাহী মানুষ। প্রথমে নদীর নাম হয় মিসৌরি। পরে অঙ্গরাজ্যের। দাসপ্রথা ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার পর ১০ আগস্ট ১৮২১ সালে প্রেসিডেন্ট মনরোর আমলে অঙ্গরাজ্য হয় এটি।

মন্টানা: পাহাড়ের দেশ

স্পেনীয় ‘মন্তানিয়া’ শব্দের অর্থ পাহাড়। রকি পর্বতমালার ভূগোলের সঙ্গে নামটি মানানসই। ১৮৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট লিংকনের আমলে মন্টানা ভূখণ্ড গঠিত হয়। ৮ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসনের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয় এটি।

নেব্রাস্কা: সমতল পানির দেশ

ওতো জনগোষ্ঠীর ভাষার শব্দ থেকে নেব্রাস্কা। অর্থ সমতল বা প্রশস্ত পানি। প্ল্যাট নদীর বৈশিষ্ট্য থেকেই নামটি এসেছে। ১৮৫৪ সালে কানসাস-নেব্রাস্কা আইনে অঞ্চলটির প্রশাসনিক পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অঙ্গরাজ্য হওয়ার ইতিহাসেও রয়েছে ব্যতিক্রম। কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকারসংক্রান্ত শর্ত নিয়ে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন ১৮৬৭ সালে নেব্রাস্কার অঙ্গরাজ্য হওয়ার আইনে ভেটো দেন। কিন্তু কংগ্রেস সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে। পরে জনসনই অঙ্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ১ মার্চ ১৮৬৭ সালে নেব্রাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭তম অঙ্গরাজ্য হয়। প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করে অঙ্গরাজ্য হওয়ার এটিই একমাত্র নজির।

নেভাডা: বরফঢাকা পাহাড়

স্পেনীয় ভাষায় নেভাডা অর্থ তুষারাবৃত। সিয়েরা নেভাডা পর্বতমালার নাম থেকেই অঞ্চলের পরিচয় গড়ে ওঠে। গৃহযুদ্ধ চলাকালে ৩১ অক্টোবর ১৮৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয় নেভাডা।

নিউ হ্যাম্পশায়ার: পুরোনো ইংল্যান্ডের স্মৃতি

ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির নামে নিউ হ্যাম্পশায়ার। ১৬২৯ সালে ব্রিটিশ ভূস্বত্বাধিকারী জন ম্যাসন নামটি দেন। তখন ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস। ২১ জুন ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে নিউ হ্যাম্পশায়ার।

নিউ জার্সি: সমুদ্রের দ্বীপ থেকে আমেরিকা

ইংলিশ চ্যানেলের জার্সি দ্বীপের নামে নিউ জার্সি। ১৬৬৪ সালে ব্রিটিশ রাজা দ্বিতীয় চার্লসের শাসনামলে ডিউক অব ইয়র্ক ভূখণ্ডটি জর্জ কার্টেরেট ও জন বার্কলেকে দেন। কার্টেরেটের সঙ্গে জার্সি দ্বীপের সম্পর্ক ছিল। ১৮ ডিসেম্বর ১৭৮৭ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে নিউ জার্সি।

নিউ মেক্সিকো: নামের বয়স রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি


ষোড়শ শতাব্দীতে স্পেনীয়দের দেওয়া নুয়েভো মেক্সিকো নাম থেকেই নিউ মেক্সিকো। অঞ্চলটি প্রথমে স্পেনের, পরে স্বাধীন মেক্সিকোর অধীনে ছিল। ১৮৪৮ সালের চুক্তিতে বৃহত্তর অংশ এবং ১৮৫৩ সালের ক্রয়চুক্তিতে আরও ভূখণ্ড মার্কিন অধিকারে আসে। ৬ জানুয়ারি ১৯১২ সালে প্রেসিডেন্ট টাফটের আমলে অঙ্গরাজ্য হয়।

নিউইয়র্ক: নিউ আমস্টারডাম, নিউ অরেঞ্জ, নিউইয়র্ক

নাম পরিবর্তনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঔপনিবেশিক উদাহরণ নিউইয়র্ক। সপ্তদশ শতকে ডাচদের উপনিবেশ ছিল নিউ নেদারল্যান্ড। প্রধান শহর নিউ আমস্টারডাম। ১৬৬৪ সালে ব্রিটিশরা অঞ্চলটি দখল করে। রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই ডিউক অব ইয়র্ক জেমসের সম্মানে শহর ও উপনিবেশের নাম হয় নিউইয়র্ক।

কিন্তু ইতিহাসের পালাবদল সেখানেই থামেনি। ১৬৭৩ সালে শহরটি পুনর্দখল করে ডাচরা। নাম দেয় ‘নিউ অরেঞ্জ’। পরের বছর আবার ব্রিটিশদের অধীনে ফিরে যায় শহরটি। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক নাম। ২৬ জুলাই ১৭৮৮ সালে অঙ্গরাজ্যটি মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে। অর্থাৎ এসব নাম পরিবর্তন ঘটেছিল অঙ্গরাজ্য হওয়ার বহু আগে।

নর্থ ক্যারোলাইনা: চার্লসের রাজকীয় উত্তরাধিকার

লাতিন ভাষায় চার্লস নামের রূপ ‘ক্যারোলাস’। সেখান থেকে ক্যারোলাইনা। ব্রিটিশ রাজা প্রথম ও দ্বিতীয় চার্লসের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সঙ্গে নামটির সম্পর্ক রয়েছে। ১৬৬৩ সালে দ্বিতীয় চার্লস উপনিবেশের নতুন সনদ দেন। ১৭১২ সালের দিকে দুই ক্যারোলাইনার পৃথক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২১ নভেম্বর ১৭৮৯ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে নর্থ ক্যারোলাইনা।

নর্থ ডাকোটা: একই দিনে জন্ম দুই রাজ্যের

ডাকোটা জনগোষ্ঠীর ভাষায় নামটির অর্থ মিত্র বা সহযোগী। ২ মার্চ ১৮৬১ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানানের আমলে ডাকোটা ভূখণ্ড গঠিত হয়। ২ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসন নর্থ ও সাউথ ডাকোটাকে পৃথক অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কোনটির নথিতে আগে স্বাক্ষর করেছেন, তা নিশ্চিত নয়।

ওহাইও: মহান নদীর উত্তরাধিকার

ওহাইও নামের উৎস ইরোকোয়ীয় ভাষায়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় এর অর্থ মহান বা সুন্দর নদী। ওহাইও নদী থেকেই অঙ্গরাজ্যের নাম। ১ মার্চ ১৮০৩ সালকে রাজ্যটির প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক তারিখ ধরা হয়। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন টমাস জেফারসন। তবে এই তারিখটি ১৯৫৩ সালে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করে।

ওকলাহোমা: দুই আদিবাসী শব্দের মিলন

চকট ভাষায় ‘ওকলা’ অর্থ মানুষ আর ‘হুম্মা’ অর্থ লাল। এই দুই শব্দের সংযোগে ওকলাহোমা। চকট নেতা অ্যালেন রাইট ঊনবিংশ শতাব্দীতে নামটি প্রস্তাব করেন। ১৬ নভেম্বর ১৯০৭ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় ওকলাহোমা।

ওরেগন: যে নামের উৎস হারিয়ে গেছে


ওরেগন নামের সঠিক উৎস অজানা। ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা রবার্ট রজার্সের লেখায় কাছাকাছি বানানের উল্লেখ পাওয়া যায়। কেউ শব্দটির উৎস আদিবাসী ভাষায় খোঁজেন। অন্যরা ইউরোপীয় ভাষায়। কোনো ব্যাখ্যাই সর্বজনস্বীকৃত নয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট বুকানানের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় ওরেগন।

পেনসিলভানিয়া: পেনের অরণ্য

১৬৮১ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস উইলিয়াম পেনকে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার সনদ দেন। পেনের পিতা অ্যাডমিরাল উইলিয়াম পেনের সম্মানে নামটি রাখা হয়। লাতিন ‘সিলভানিয়া’ অর্থ বনভূমি। অর্থাৎ পেনের অরণ্য। ১২ ডিসেম্বর ১৭৮৭ সালে দ্বিতীয় অঙ্গরাজ্য হিসেবে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে পেনসিলভানিয়া।

রোড আইল্যান্ড: সত্যিকারের নাম পরিবর্তনের নজির

ডাচ অভিযাত্রী আদ্রিয়ান ব্লকের ব্যবহৃত ‘লাল দ্বীপ’ অর্থবাহী নাম থেকে রোড আইল্যান্ড এসেছে বলে একটি মত রয়েছে। অন্য ব্যাখ্যায় গ্রিসের রোডস দ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক খোঁজা হয়। ১৬৬৩ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের সনদে দীর্ঘ নাম প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রোড আইল্যান্ড অ্যান্ড প্রভিডেন্স প্ল্যান্টেশনস’। ২৯ মে ১৭৯০ সালে অঙ্গরাজ্যটি মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে।

২০২০ সালের ৩ নভেম্বর গণভোটে দীর্ঘ সরকারি নাম থেকে ‘প্রভিডেন্স প্ল্যান্টেশনস’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে আনুষ্ঠানিক নাম হয় শুধু ‘স্টেট অব রোড আইল্যান্ড’। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ছিলেন জিনা রাইমন্ডো।

সাউথ ক্যারোলাইনা: রাজপরিবারের নাম বহাল


নর্থ ক্যারোলাইনার মতো সাউথ ক্যারোলাইনার নামও ইংল্যান্ডের চার্লস রাজাদের স্মৃতি বহন করে। একসময় একই উপনিবেশের অংশ ছিল দুই অঞ্চল। ১৭১২ সালের প্রশাসনিক বিভাজন পরবর্তী সময়ে স্থায়ী রূপ পায়। ২৩ মে ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে সাউথ ক্যারোলাইনা।

সাউথ ডাকোটা: একই ইতিহাসের আরেক উত্তরাধিকারী

ডাকোটা জনগোষ্ঠীর নাম থেকে সাউথ ডাকোটা। নর্থ ডাকোটার সঙ্গে অভিন্ন ভূখণ্ডের অতীত রয়েছে। ১৮৬১ সালে গঠিত ডাকোটা অঞ্চল শেষ পর্যন্ত দুই ভাগ হয়। ২ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারিসনের স্বাক্ষরে দুই অঙ্গরাজ্যের জন্ম হয়। প্রচলিত ক্রমে সাউথ ডাকোটা ৪০তম রাজ্য।

টেনেসি: আদিবাসী বসতির নাম

চেরোকি জনগোষ্ঠীর তানাসি নামের বসতি থেকে টেনেসি শব্দটির উৎপত্তি। পরে একই নাম নদীর পরিচয় হয়। ১৭৮৪ সালে বর্তমান টেনেসির একটি অংশ নিয়ে ‘ফ্রাঙ্কলিন’ নামে স্বঘোষিত রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১ জুন ১৭৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের আমলে টেনেসি অঙ্গরাজ্য হয়।

টেক্সাস: বন্ধুত্বের পরিচয়

ক্যাডো জনগোষ্ঠীর ভাষায় ‘তাইশা’ বা কাছাকাছি শব্দের অর্থ বন্ধু বা মিত্র বলে বহুল প্রচলিত ব্যাখ্যা রয়েছে। স্পেনীয়রা সেটিকে তেহাস রূপে ব্যবহার করেন। পরে ইংরেজিতে হয় টেক্সাস। ১৮৩৬ সালে মেক্সিকো থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে টেক্সাস প্রজাতন্ত্র। ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪৫ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস পোলকের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হয়।

ইউটাহ: প্রস্তাব ছিল ডেজেরেট

ইউটাহ নামের সঙ্গে ইউটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৮৪৯ সালে মরমন বসতিস্থাপনকারীরা ‘ডেজেরেট’ নামে একটি অঙ্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার আবেদন করেন। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস তা গ্রহণ করেনি। ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৫০ সালে প্রেসিডেন্ট ফিলমোরের আমলে ইউটাহ ভূখণ্ড গঠিত হয়। ৪ জানুয়ারি ১৮৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয়।

ভারমন্ট: নিউ কানেকটিকাট থেকে সবুজ পাহাড়

১৭৭৭ সালের জানুয়ারিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় অঞ্চলটির জন্য ‘নিউ কানেকটিকাট’ নাম ব্যবহার করা হয়। একই বছরের জুনে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারমন্ট নাম। ফরাসি শব্দে এর অর্থ সবুজ পাহাড়। বিপ্লবী টমাস ইয়ংয়ের সঙ্গে নতুন নামের প্রস্তাব যুক্ত। ৪ মার্চ ১৭৯১ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের আমলে ইউনিয়নে যোগ দেয় ভারমন্ট।

ভার্জিনিয়া: কুমারী রানির স্মৃতি

ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের উপাধি ছিল ‘ভার্জিন কুইন’। তাঁর নাম থেকেই ভার্জিনিয়া। ১৫৮৪ সালে স্যার ওয়াল্টার র‍্যালির ঔপনিবেশিক উদ্যোগের সঙ্গে নামটির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পরও নাম পরিবর্তন হয়নি। ২৫ জুন ১৭৮৮ সালে মার্কিন সংবিধান অনুমোদন করে ভার্জিনিয়া।

ওয়াশিংটন: কলাম্বিয়া হওয়ার কথা ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের নামে একমাত্র অঙ্গরাজ্য ওয়াশিংটন। ১৮৫৩ সালে ওরেগন থেকে পৃথক একটি ভূখণ্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম প্রস্তাবিত নাম ছিল কলাম্বিয়া। কিন্তু মার্কিন আইনপ্রণেতা রিচার্ড স্ট্যানটন প্রথম প্রেসিডেন্টকে সম্মান জানাতে ওয়াশিংটন নাম প্রস্তাব করেন।

২ মার্চ ১৮৫৩ সালে প্রেসিডেন্ট মিলার্ড ফিলমোর ওয়াশিংটন ভূখণ্ড গঠনের আইনে স্বাক্ষর করেন। পরে ১১ নভেম্বর ১৮৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসনের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় ওয়াশিংটন।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া: নাম বদলের আড়ালে গৃহযুদ্ধ

আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় ভার্জিনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের একাংশ ইউনিয়নের পক্ষে অবস্থান নেয়। ১৮৬১ সালে পৃথক অঙ্গরাজ্য গঠনের উদ্যোগে প্রথমে ‘কানাওহা’ নাম প্রস্তাবিত হয়। কিন্তু পরবর্তী সাংবিধানিক সম্মেলনে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া নাম গ্রহণ করা হয়। ২০ জুন ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের শাসনামলে অঙ্গরাজ্য হয় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।

উইসকনসিন: আদিবাসী নদীর নাম

উইসকনসিন নামের উৎস আদিবাসী ভাষায়। তবে কোন ভাষার কোন শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ফরাসি অভিযাত্রীদের লেখায় বিভিন্ন বানান পাওয়া যায়। একটি ব্যাখ্যায় লাল পাথুরে ভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর ধারণা রয়েছে। ২৯ মে ১৮৪৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেমস পোলকের আমলে অঙ্গরাজ্য হয় উইসকনসিন।

ওয়াইয়োমিং: পূর্বের উপত্যকা থেকে পশ্চিমের রাজ্য

ওয়াইয়োমিং নামের শিকড় ডেলাওয়্যার বা লেনাপে জনগোষ্ঠীর ভাষায়। অর্থ বিস্তৃত সমতলভূমি বলে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রথমে নামটি ব্যবহৃত হয় পেনসিলভানিয়ার ওয়াইয়োমিং উপত্যকায়। ১৮৬৫ সালে কংগ্রেস সদস্য জেমস অ্যাশলি পশ্চিমাঞ্চলের নতুন ভূখণ্ডের জন্য নামটি প্রস্তাব করেন। ১৮৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের আমলে ওয়াইয়োমিং ভূখণ্ড গঠিত হয়। ১০ জুলাই ১৮৯০ সালে অঙ্গরাজ্য হয় এটি।

তাহলে এ পর্যন্ত কয়টি রাজ্যের নাম বদলেছে?

উত্তরটি নির্ভর করছে নাম পরিবর্তনের সংজ্ঞার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সরকারি পূর্ণ নাম পরিবর্তনের সবচেয়ে সুস্পষ্ট উদাহরণ রোড আইল্যান্ড। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার নাম সংক্ষিপ্ত করার পক্ষে ভোট দেন। সরকারি ফল অনুযায়ী, পক্ষে ভোট পড়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৬১টি। বিপক্ষে ২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৫টি।

দাসপ্রথা ও বর্ণবৈষম্যের ইতিহাসের সঙ্গে ‘প্ল্যান্টেশনস’ শব্দের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক ছিল। যদিও মূল ঔপনিবেশিক নামকরণের সময় শব্দটির ব্যবহার সরাসরি দাসশ্রমনির্ভর বাগান বোঝাত না। তবু ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সমকালীন সংবেদনশীলতার কারণে দীর্ঘ নাম সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন ভোটাররা।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের নাম বদলেছিল ব্রিটিশ ও ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনের পালাবদলে। ভারমন্টে ১৭৭৭ সালে নতুন নাম গ্রহণ করা হয় স্বাধীন প্রজাতন্ত্র থাকার সময়ে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার নাম নির্ধারিত হয়েছিল অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তুতিকালে। ওয়াশিংটনের ‘কলাম্বিয়া’ নামটি ছিল প্রস্তাব, কখনও প্রতিষ্ঠিত অঙ্গরাজ্যের নাম নয়।

নর্থ ডাকোটার নাম থেকে ‘নর্থ’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। ১৯৪৭ ও ১৯৮৯ সালে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোটিই সফল হয়নি।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আদিবাসীবিষয়ক ব্যুরোর ঐতিহাসিক বিবরণে ‘ফ্রাঙ্কলিন’ নামে স্বঘোষিত রাষ্ট্রের কথাও রয়েছে। কিন্তু সেটি কখনও যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত অঙ্গরাজ্য ছিল না। ফলে ফ্রাঙ্কলিনের নাম টেনেসি করা হয়েছিল, এমন সরল সিদ্ধান্তও ভুল।

নাম বদলাতে পারেন কি প্রেসিডেন্ট?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদে নতুন অঙ্গরাজ্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে। কিন্তু বিদ্যমান অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য একক প্রেসিডেন্ট আদেশের কোনো সাধারণ ক্ষমতা সেখানে নেই।

কোনো অঙ্গরাজ্যের সরকারি নাম পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুসারে ফেডারেল পর্যায়েও আইনগত পদক্ষেপ লাগতে পারে। তবে বিদ্যমান অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো সরল পদ্ধতি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ভৌগোলিক নামের মান নির্ধারণে একটি ফেডারেল বোর্ড রয়েছে। ১৮৯০ সালে প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসনের আমলে এর যাত্রা শুরু হয়। নদী, হ্রদ, পাহাড় ও অন্যান্য ভৌগোলিক স্থানের নামের ব্যবহার সমন্বয় করে বোর্ডটি। কিন্তু তার ক্ষমতাও বিদ্যমান অঙ্গরাজ্যের সাংবিধানিক নাম একতরফাভাবে পাল্টানোর সমতুল্য নয়।

ট্রাম্প এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্টারিও হ্রদের ক্ষেত্রেও ‘লেক আমেরিকা’ নাম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে একটি হ্রদ বা উপসাগরের সরকারি নামের ব্যবহার পরিবর্তন এবং একটি অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন এক ধরনের আইনি বিষয় নয়।

নিউ মেক্সিকোর নাম বদলের দাবি স্থানীয় রাজনীতিকদের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেগ কানিংহামও প্রস্তাবটির আইনগত বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মানচিত্রের নাম, নাকি মানুষের ইতিহাস?

যে ভূখণ্ডকে একসময় ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা নিজেদের আবিষ্কার বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে তার বহু শতাব্দী আগেই মানুষের বসবাস ছিল। ছিল নদীর নাম। পাহাড়ের নাম। ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস। ইউরোপীয় উপনিবেশকারীরা অনেক নাম মুছে দিয়েছেন। অনেক নামের উচ্চারণ পাল্টেছেন। আবার কিছু নাম নিজেদের ভাষায় লিখে রেখে গেছেন।

ফলে আজকের যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র কেবল ৫০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের সমষ্টি নয়। একেকটি নাম একেকটি ঐতিহাসিক দলিল। কোথাও সাম্রাজ্যের স্মৃতি। কোথাও যুদ্ধের ক্ষত। কোথাও হারিয়ে যেতে বসা ভাষার শেষ চিহ্ন।

পাঁচ শতাব্দী আগে কলম্বাসের অভিযানের পর ইউরোপীয়দের কাছে বদলে গিয়েছিল পৃথিবীর মানচিত্র। আমেরিগো ভেসপুচির নামে লেখা হয়েছিল এক মহাদেশের পরিচয়। আজ সেই আমেরিকারই একটি অঙ্গরাজ্যের নাম পাল্টাতে চান ট্রাম্প।

কিন্তু নিউ মেক্সিকোর নাম মুছে দিলেই কি মুছে যাবে তার স্পেনীয় অতীত? মুছে যাবে মেশিকা জনগোষ্ঠীর স্মৃতি? কিংবা পুয়েবলোদের হাজার বছরের ইতিহাস?

একটি নাম বদলাতে কয়েকটি শব্দই যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু সেই নামের পেছনে জমে থাকা শত শত বছরের ইতিহাস বদলাবে কে?

আমেরিকাঅঙ্গরাজ্যনিউ মেক্সিকোনিউইয়র্ক
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    স্বরাষ্ট্রের ক্ষমতায় পররাষ্ট্রের বাগড়া

    স্বরাষ্ট্রের ক্ষমতায় পররাষ্ট্রের বাগড়া

    হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যাওয়া রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

    হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যাওয়া রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ

    পূজা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন চার নারী, পথে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিল ডাকাতরা

    পূজা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন চার নারী, পথে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিল ডাকাতরা

    ‘সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী’ ফেসবুকে লিখলেন চিকিৎসক

    ‘সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী’ ফেসবুকে লিখলেন চিকিৎসক

    দুই পা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল ট্রাভেল ব্যাগে

    দুই পা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল ট্রাভেল ব্যাগে

    সেই রমিজের বিরুদ্ধে এবার সাড়ে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

    সেই রমিজের বিরুদ্ধে এবার সাড়ে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

    গন্তব্যে পৌঁছানো হলো না মা–মেয়ের, পথেই সব শেষ

    গন্তব্যে পৌঁছানো হলো না মা–মেয়ের, পথেই সব শেষ

    নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশু হামজার

    নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশু হামজার

    ৩ বছরে সৌদিতে ৩৬৩ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, বাংলাদেশি কত?

    ৩ বছরে সৌদিতে ৩৬৩ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, বাংলাদেশি কত?

    দিনলিপি

    দিনলিপি

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ধরে হাসনাতের পোস্টের কড়া জবাব স্নিগ্ধের

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ধরে হাসনাতের পোস্টের কড়া জবাব স্নিগ্ধের

    নবীনগরে বল তুলতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল জমজ দুই ভাইয়ের

    নবীনগরে বল তুলতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল জমজ দুই ভাইয়ের

    পথশিশুদের জন্য ওমর ফারুকের ১২ বছরের লড়াই

    পথশিশুদের জন্য ওমর ফারুকের ১২ বছরের লড়াই

    ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’

    ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’

    ভারত যাওয়ার সময় যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক

    ভারত যাওয়ার সময় যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক