মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নিষেধাজ্ঞা বহাল
বিবিসি

ট্রান্সজেন্ডারদের মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের জন্য আন্দোলন- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলে বালিকা স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এমন রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
এই রায়ের আগে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দুটি মামলার শুনানি হয়। ওই দুই অঙ্গরাজ্য এমন আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে সরকারি স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্মের সময় নিবন্ধিত জৈবিক লিঙ্গ অনুযায়ী প্রতিযোগিতা করতে হবে।
মামলাগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত সমান অধিকারের সুরক্ষার পরিপন্থী। অন্যটিতে বলা হয়, এটি দেশটির নাগরিক অধিকার আইন লঙ্ঘন করে।
এসব আইনের অধীনে ট্রান্সজেন্ডার নারী—অর্থাৎ জন্মসূত্রে পুরুষ হলেও নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি—মেয়েদের স্কুল ও কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না।
আইডাহোর দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ লিন্ডসে হেকক্স আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই এর বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন। পরে জেলা আদালত ও আপিল আদালত উভয়ই তার পক্ষে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আইনটির প্রস্তাবকারী অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা বারবারা এহার্ডট সে সময় বলেছিলেন, এই আইন নিশ্চিত করবে যে ‘ছেলে ও পুরুষরা মেয়েদের ক্রীড়ায় তাদের জায়গা দখল করতে পারবে না, কারণ এটি ন্যায়সঙ্গত নয়।’
তবে আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ রায়ে বলেছিলেন, আইডাহোর আইনটি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের মতে, মেয়েদের ক্রীড়ায় লিঙ্গসমতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ অঙ্গরাজ্যটি উপস্থাপন করতে পারেনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতভাবে মেয়েদের ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের মেয়েদের ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেন।
এর পর যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনসিএএও নারীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।




