জরিপ
সামাজিক মাধ্যমে সরকারি তদারকি চান ৬০% মার্কিনি

ছবি: রয়টার্স
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারের আরও কঠোর তদারকির পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক। বয়স যাচাইকরণসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার পক্ষেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন।
রয়টার্স ও ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেখা গেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ নাগরিক বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ মতের সমর্থন ৭১ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে তা ৬২ শতাংশ।
এদিকে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ঠেকাতে কোম্পানিগুলোকে বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্য করার পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন ৭৪ শতাংশ। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ।
এ জরিপের ফল এমন সময় প্রকাশিত হল যখন শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বাড়ছে আইনি চাপ। ছয় দিন ধরে চলা জরিপটি শেষ হয় জরিপটি ৩ আগস্ট।
তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। এ নিয়ে মেটা প্ল্যাটফরমস ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবসহ চাপ বাড়ছে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর।
তরুণদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত করার উদ্দেশ্যে পণ্য তৈরির অভিযোগে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রসিকিউটরদের করা একটি মামলার বিচারও শিগগির শুরু হওয়ার কথা। অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলোর মামলায় হেরে গেলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।
এরই মধ্যে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে মেটাকে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই আদেশে অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন অঙ্গরাজ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে। তবে মেটা, টিকটক ও স্ন্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর সমর্থিত বাণিজ্য সংগঠন নেটচয়েস এসব বয়স যাচাই আইন চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে। সংগঠনটির দাবি, আইনগুলো বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী।
তবে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে এখনো দেশব্যাপী কার্যকর কোনো আইন করতে পারেনি মার্কিন কংগ্রেস। ফলে অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়মের পার্থক্য রয়েছে।
‘কাউকে না কাউকে তো করতেই হবে’
সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে দলীয় বিভাজন খুব একটা স্পষ্ট নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় টেনেসির ৬০ বছর বয়সি যন্ত্রপ্রকৌশলী জেমস বোসারডেটের কথা।
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া বোসারডেট সাধারণত সরকারি হস্তক্ষেপ কম রাখার পক্ষে। তবে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ভিন্ন।
তিনি বলেন, কাজটি কাউকে না কাউকে করতেই হবে। এটি সরকারের দায়িত্ব হোক এটা তিনি চান না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সরকারেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য আসক্তিকর হতে পারে। একই সংখ্যক উত্তরদাতা মনে করেন, এই আসক্তি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ওয়াশিংটন ডিসির ৩৪ বছর বয়সি ক্রিস্টোফার চেন ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দিয়েছিলেন। তরুণদের ওপর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
চেনের মতে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা কী দেখবেন, তার ওপর প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকারের কিছু করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
ক্যানসাসের ৭৩ বছর বয়সি পওলা ডিকও সামাজিক মাধ্যম নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। শিশুদের অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে কোম্পানিগুলো আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ডিক নাতি-নাতনিদের ইউটিউব দেখতে দেন না। তবে নানা প্রযুক্তিগত কৌশলে তারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যায় বলে জানান তিনি।
সামাজিক মাধ্যমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও আছে
তবে সামাজিক মাধ্যম নিয়ে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ বলেছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানো তাদের কাছে আনন্দদায়ক।
অন্যদিকে, ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে তারা মানসিক চাপ অনুভব করেন।
নিজেদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের মাত্রা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। ৫২ শতাংশ মনে করেন, তারা প্রতিদিন এসব প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন। ৪৩ শতাংশ অবশ্য এ মতের সঙ্গে একমত নন।
অনলাইনে পরিচালিত জরিপটিতে ৪ হাজার ৫০৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নিয়েছেন। জরিপের ফলাফলে ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে ২ শতাংশ পয়েন্ট।




