ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখায় ৫ বিলিয়ন ডলারের মামলার হুমকি

ট্রাম্পের আইনি হুমকিতে পিছু হটেনি ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস
ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই যেন পাল্টা বজ্রপাত—প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবেদন প্রত্যাহার না করলে ৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘটনার কেন্দ্র ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস। ১৩ জুলাই প্রকাশিত তাদের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসি, মেমফিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কারণে সহিংস অপরাধ কমেছে—এমন উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অপরাধ কমার প্রবণতা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের আগেই শুরু হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের খরচ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ করদাতাদের জন্য ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
এতেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের পক্ষ।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী আলেহান্দ্রো ব্রিটো চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিবেদন প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে এসব দাবি পূরণ না করলে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।
কিন্তু ট্রাম্পের আইনি হুমকিতে পিছু হটেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের প্রধান নীরা ট্যান্ডেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা তথ্য ও অপরাধের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি। রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রতিবেদন প্রত্যাহার করা হবে না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একটি সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক সমালোচনা করলেই যদি বিলিয়ন ডলারের মামলার হুমকি আসে, তাহলে স্বাধীন গবেষণা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা এখনো দায়ের হয়নি। এটি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেওয়া আইনি হুমকি। আর যে প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা এখনো তাদের প্রতিবেদন প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি।






