যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকি চরমে, সতর্ক পেন্টাগন

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা শাখা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে উন্নীত করেছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘গুরুতর’ পর্যায়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ গত শুক্রবার প্রথম এই পরিবর্তনের খবরটি প্রকাশ করে। এর পরদিন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসও।
সংবাদমাধ্যম দুটি নাম প্রকাশে অবিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কৌশলগত কারণে এই গোয়েন্দা সতর্কতার মাত্রা নিয়ে যাওয়া হয়েছে ‘চরমে’ বা ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ডিআইএ এই সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে মূলত একটি সুনির্দিষ্ট কারণে। তারা আশঙ্কা করছে, হোয়াইট হাউস যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ভেতরে ভেতরে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা জানতেই ইসরায়েল শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর এই নজরদারি বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শুরু করে। তবে গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পর থেকে কিছুটা কমেছে হামলার পরিধি।
এই যুদ্ধবিরতির পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধটি পুরোপুরি শেষ করার পক্ষে বারবার অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাগুলো বারবার ভেস্তে যাওয়ার পেছনে এই নীতিগত পার্থক্য কাজ করছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাস পুরনো হলেও ২০২৪ সালের শেষের দিক থেকে এই তৎপরতা অনেক বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ করে যখন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যা নিয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করে, তখন থেকেই এই নজরদারি বৃদ্ধি পায়।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসার পর ইরান নীতি নিয়ে আলোচনার সময়ও এই গুপ্তচরবৃত্তি অব্যাহত থাকে।
সূত্র : আলজাজিরা




