ভোটে হারের পর নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে বিদায় ও পদত্যাগ আতঙ্ক

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা। হোয়াইট হাউসের কর্মী কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো বিতর্কিত নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় হোয়াইট হাউসে তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা ও পদত্যাগের আলোচনা জোরালো হয়েছে।
নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরাও হেরে গেছেন। এতে তার প্রেসিডেন্সির বাকি সময়ের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রবীণ রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন ফিহেরি এ ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য ‘বিশাল বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এখন থেকে প্রতিটি দিন ট্রাম্প আরও দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়বেন।
তবে ট্রাম্প পরাজয়ের দায় নিজের ওপর নিতে রাজি নন। মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, ‘আমি এটিকে আমার ওপর কোনো আঘাত হিসেবে দেখছি না। হেরেছে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা।’
নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসের ভেতরে কর্মীদের বিদায়, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সেখানকার কর্মীদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে। তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে আগেভাগে সরে যাওয়াই ভালো বলে মনে করছেন অনেকে।
ওই কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগে অভ্যন্তরীণ জরিপে সতর্ক করা হয়েছিল, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই পরাজিত হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করা হলেও ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নিজের অবস্থান বদলাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত তিনি কারও কথা শুনতে চাননি বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
রিপাবলিকানদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ ট্রাম্পের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো। মিশিগান ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে ফোকাস গ্রুপের আলোচনায় অনেক রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটার হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কারে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগের সমালোচনা করেছেন।
এক রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রাম্প যদি আগামী দুই বছর একই বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকেন, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনেও দলকে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে। কিন্তু বুধবার সাংবাদিকদের নিয়ে বলরুম নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন ট্রাম্প। প্রকল্পে নিজের সময় ব্যয় করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমার ভালো লাগে।’
এদিকে হোয়াইট হাউস জনসমক্ষে আপসহীন অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে, ‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও ফেডারেল ব্যয় নিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি নিজের কর্মসূচির কিছু অংশ এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে এই ক্ষমতা কংগ্রেসের তদন্ত ঠেকাতে পারবে না।
নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পাবেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত, আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়া এবং প্রশাসনের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার সুযোগ তাদের হাতে থাকবে। বিচার বিভাগ ও বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।




