ইরান যুদ্ধের কারণে দল হারলেও অনুশোচনা নেই, বললেন ট্রাম্প

নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প । ফাইল ছবি / রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই যুদ্ধের সিদ্ধান্তে তার কোনো অনুশোচনা নেই। আবার সুযোগ পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের একটি কারণ ছিল ইরান যুদ্ধ।
এ সংঘাতের কারণে স্বল্প মেয়াদে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি সঠিক কাজ করেছি। আবারও একই কাজ করতাম।’ তার ভাষ্য, দীর্ঘ মেয়াদে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর এটাই একমাত্র উপায়।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের ফলের পর রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলের ভেতরেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের হারের কারণ যুদ্ধ।’ তার বক্তব্য, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো যুদ্ধের মূল্য হিসেবে কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়ে দলের সদস্যদের খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে অসন্তোষ ছিল। যুদ্ধের কারণে পেট্রল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
তবে ট্রাম্প যুদ্ধের বিরোধিতা ও এর অর্থনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পার্থক্য টানার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, ভোটাররা ইরানের বিরুদ্ধে তার পদক্ষেপের গুরুত্ব বুঝেছেন; কিন্তু জ্বালানির বাড়তি দাম মেনে নিতে চাননি।
নির্বাচনের ফলের কারণে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে সরানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, হেগসেথ ‘দারুণ কাজ করছেন’।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর দাবি উঠেছে কংগ্রেসের দুই দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার কাছ থেকে।
সূত্র : এনবিসি




