বজ্রপাতের পর অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ

সংগৃহীত ছবি
বজ্রপাতের শিকার হয়েও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ। এই ঘটনাকে অলৌকিক বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হান্টার উইচ নামের ওই তরুণ পূর্ব টেক্সাসের জ্যাসপার কাউন্টির অ্যাঞ্জেলিনা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ সেখানে বজ্রসহ ঝড় শুরু হয়। তখন তিনি নদীর পাড়ের একটি পাইন গাছের নিচে আশ্রয় নেন। ঠিক তখন ওই গাছটিতে সরাসরি বজ্রপাত আঘাত করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রচণ্ড ওই বজ্রাঘাতে তরুণটি গাছ থেকে কয়েক ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে গাছটি বিস্ফোরিত হয়। কাঠের টুকরো ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায় ওই তরুণের শরীর। ভয়াবহ এই ঘটনার পরও তিনি বেঁচে যান। হারাননি জ্ঞানও।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জরুরি সেবা কর্মীরা। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরে পোড়া দাগ, কাটা ও উড়ে আসা কাঠের টুকরোর আঘাতজনিত ক্ষত পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।
ঘটনার পর উইচ নিজেকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভাগা অথচ ভাগ্যবান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, আরও ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারত। তাই বেঁচে থাকাটাই তার কাছে আশীর্বাদ। বজ্রাঘাতের পর কিছু সময়ের জন্য তার পায়ের কয়েকটি অংশ অবশ হয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তরুণটির মা বলেছেন, ‘পরিবারের কাছে তার বেঁচে ফেরা অলৌকিক ঘটনার মতো। ছেলেকে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসতে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।’
তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, ঘটনার পরের দিনই উইচ আবার সেই একই মাছ ধরার স্থানে ফিরে যান। নাটকীয় এই বেঁচে যাওয়ার গল্প এবং এত দ্রুত আবার মাছ ধরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কতা জারি করেন। তারা খারাপ আবহাওয়ায় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং খোলা পানির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ বজ্রপাত হঠাৎ আঘাত হানতে পারে এবং আশপাশের বস্তু দিয়েও বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।
বজ্রাপাতের ঘটনা তুলনামূলক বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে বেঁচে গেলেও অনেকের শরীরে পোড়া দাগ, স্নায়ুর ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উইচের বেঁচে যাওয়াকে অনেকে অবিশ্বাস্য সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: এনডিটিভি







