ভয়ে টেবিলের তলায় ট্রাম্প!
- তাড়াহুড়োয় একবার পড়েও যান ট্রাম্প। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে টেনে তোলেন এজেন্টরা

ছবিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ তিনি হতে পারেন; কিন্তু প্রাণভয় আছে তারও। মৃত্যুভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনিও। দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও পাংশু হয়ে যায় দাম্ভিক চেহারা। শনিবার আরও একবার সেই দৃশ্য দেখল গোটা বিশ্ব। গুলির শব্দ শুনতেই চেয়ার ছেড়ে টেবিলের তলায় লুকালেন ট্রাম্প। পাশের সুন্দরী স্ত্রী, ভরা মজলিস, শত শত ক্যামেরা— সব ভুলে গেলেন ট্রাম্প! পলকে উড়ে গেল ‘প্রেসিডেন্ট গাম্ভীর্য।’
ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেল। হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র ৯ মিনিটের পথ। একেবারেই ঘরের কাছে। নিরাপত্তাবাহিনীর শত শত এজেন্টের কড়া পাহারা। ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, আমলাসহ রাষ্ট্রের হোমরাচোমরা সবাই এক ছাদের নিচে। সামনের শতাধিক সাংবাদিক মিলিয়ে প্রায় ২৬০০ অতিথির মেলা। এর মধ্যেই এ বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে তখন সন্ধ্যারাত। ঘড়ির কাঁটায় সবেমাত্র ৮টা ৩৬। চলছে হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। বিশাল বলরুমে তখন খাওয়ার আয়োজন। সামনে সারি সারি টেবিলে গোল হয়ে বসে আছেন অতিথিরা। মঞ্চে খোশমেজাজে ট্রাম্প। পাশে ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। একই সারিতে বসে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার পাশে বাকিরা। সবাই সস্ত্রীক। মৃদু গুঞ্জনে দুলছে ঘরের বাতাস। হঠাৎ গুলির শব্দ। মুহূর্তেই পাল্টে গেল সব।
সে কী হুলস্থুল কাণ্ড! দল ভাঙা ছুট। সঙ্গী ফেলে দৌড়। চটি-জুতো ফেলে দৌড়। একই চিত্র ধরা পড়ে ওপরের মঞ্চেও। হুড়মুড় করে টেবিলের নিচে ঢুকে পড়েন মঞ্চের মন্ত্রী-আমলারা। মঞ্চে তখন ভয়াল দৃশ্য। ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে ফার্স্টলেডি মেলানিয়ার চঞ্চল চঞ্চুও। ওয়াশিংটন পোস্ট ,রয়টার্স, সিএএনসহ বিশ্বগণমাধ্যম প্রায় সবগুলোতেই উঠে এসেছে সে দৃশ্য।
পেছন থেকে ঝড়ের গতিতে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে ধরলেন কয়েকজন সশস্ত্র এজেন্ট। বিবর্ণ মেলানিয়া ততক্ষণে টেবিলের তলায়। স্ত্রীর দেখাদেখি ঘাড় গুঁজে , পিঠ কুঁজো করে হতভম্বের মতো নিচে ঝোঁকেন ট্রাম্পও। সব মিলে ৩০-৪০ সেকেন্ড। এর মধ্যেই বন্দুক উঁচিয়ে ছুটে আসেন এজেন্টরা। প্রেসিডেন্টকে ঘিরে ধরে নিয়ে যান মঞ্চের পেছনে। তাড়াহুড়োয় একবার পড়েও যান ট্রাম্প। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে টেনে তোলেন এজেন্টরা। নিয়ে যান নিরাপদে।
এর মধ্যেই চোখে পড়ল, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্যুটের হাতা ধরে ‘চিলের মতো ছোঁ মেরে’ টেনে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। কেউ আবার ঈষৎ মাথা জাগিয়ে ঠাওর করার চেষ্টা করছেন পুরো ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বললেন, এক ব্যক্তি একটি শটগান থেকে সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্যের দিকে গুলি ছোড়েন। সিক্রেট সার্ভিসের ওই সদস্য সুরক্ষা পোশাক পরা ছিলেন। গুলিটি সুরক্ষা পোশাকে আঘাত করায় তার ক্ষতি হয়নি।
গুলির সে শব্দ শোনামাত্রই কথা বলা থামিয়ে দেন। মুহূর্তেই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়— ‘নিচে বসে পড়ুন, নিচে বসুন!’
শত শত অতিথি আতঙ্কে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। দৌড়ে ডাইনিং হলে ঢুকে পড়েন সুরক্ষা পোশাক পরা সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তারা। গুলির ঘটনাটা মূলত ঘটেছে বল রুমের বাইরে। সিক্রেট সার্ভিসের একজন বলেছেন, পরপর পাঁচটি গুলি চালিয়েছে হামলাকারী। একের পর এক। কেউ জানান, অন্তত সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি।




