কুমিল্লার তিন শিবির কর্মীর মৃত্যুর তথ্যটির সত্যতা কি?

ছবি: আগামীর সময়
একটি সংঘর্ষ, কয়েকটি ছবি-স্ট্যাটাস, আর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে একটি ‘সংবাদ’-কুমিল্লা পলিটেকনিকে নাকি তিন শিবির কর্মীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ‘কুমিল্লার কাগজ’-এর নাম জড়িয়ে দাবিটি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হয়। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিভ্রান্তিকর একটি দাবি। বলা হচ্ছে, ওই ঘটনায় ছাত্রশিবিরের তিন কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই তথ্যটি নাকি স্থানীয় দৈনিক ‘কুমিল্লার কাগজ’-এর প্রতিবেদনে এসেছে। তবে অনুসন্ধানে এ দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ এপ্রিল, যখন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনার পরই অনলাইনে ‘তিনজন নিহত’ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ‘কুমিল্লার কাগজ’ এ ধরনের কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। পত্রিকাটির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে অনুসন্ধান করে এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় আহতের সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ৩২ জন। তবে কোথাও কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।
অতএব, কুমিল্লা পলিটেকনিকে তিন শিবির কর্মীর লাশ উদ্ধারের দাবি এবং সেটিকে ‘কুমিল্লার কাগজ’-এর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।





