যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী ও ভোটারদের সরব উপস্থিতি
- ২৩ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৫১ মুসলিম প্রার্থীর লড়াই

ওপরে বাঁ থেকে ক্রমান্বয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ, ইলহান ওমর, আদম হামাওয়ি, ওমর ফাতেহ, আবের কাওয়াস, জয়নাব মোহাম্মদ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী ও ভোটারদের উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে। কংগ্রেস, সিনেট, অঙ্গরাজ্য আইনসভা এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুসলিম আমেরিকানরা। নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২৩টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৫১ মুসলিম প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচিত কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা এবং নতুন মুখ।
আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্র্যাট নেতা ২০১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে এবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিবও পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও মুসলিম রাজনীতিকদের উপস্থিতি আলোচনায় রয়েছে। অঙ্গরাজ্য সিনেটের ১২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবের কাওয়াস। তিনি নির্বাচিত হলে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেন। নিউ ইয়র্কের ১৩ নম্বর কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরের নামও নির্বাচনী আলোচনায় এসেছে।
ইন্ডিয়ানার সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য আন্দ্রে কারসনও মুসলিম-আমেরিকান রাজনীতিকদের মধ্যে পরিচিত মুখ। নিউ জার্সির ১২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী আদম হামাওয়ি। নির্বাচিত হলে তিনি নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন।
মিনেসোটায় ইলহান ওমরের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য রাজনীতিতে রয়েছেন ওমর ফাতেহ, জয়নাব মোহাম্মদ, মোহামুদ নূর ও আনকুয়াম মাহামুদ। তাদের মধ্যে ওমর ফাতেহ অঙ্গরাজ্য সিনেটের সদস্য এবং সোমালি-আমেরিকান রাজনীতিক।
টেক্সাসে অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে রয়েছেন সুলেমান লালানি ও সালমান ভোজানি। হ্যারিস কাউন্টির শীর্ষ প্রশাসনিক পদে প্রার্থী লেটিশিয়া প্লামার। জর্জিয়ায় অঙ্গরাজ্য সিনেটের প্রার্থী বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমান এবং অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী ফারুক মুঘল।
ওহাইওতে অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী ইসমাইল মোহাম্মদ ও মুনিরা আবদুল্লাহি। কানেকটিকাটে রয়েছেন মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার। পেনসিলভানিয়ায় তারিক খান, নর্থ ক্যারোলাইনায় মুজতবা মোহাম্মদ এবং কলোরাডোতে ইমান জোদেহ নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন।
প্রার্থীদের পাশাপাশি মুসলিম ভোটারদের অংশগ্রহণও এবারের নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, নাগরিক অধিকার এবং গাজা ও ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি তাদের আলোচনার বিষয়। তবে মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক মত ও দলীয় সমর্থন একরকম নয়। তাদের ভোটের সিদ্ধান্তও বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুর ওপর নির্ভর করছে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের সক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতির চিত্র তুলে ধরছে। নির্বাচনের ফলেই বোঝা যাবে, জাতীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কতটা বাড়ে।




