মেটার ‘আসক্তিকর’ ডিজাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশুর হাতে ফেইসবুক, কিশোরের চোখে ইন্সটাগ্রাম—সঙ্গে অনন্ত স্ক্রল, অ্যালগরিদম আর একের পর এক নোটিফিকেশন। শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ে এবার ২৯ মার্কিন অঙ্গরাজ্যের আদালতে কাঠগড়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রামের এমন নকশা, যা শিশুদের দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, শিশু-কিশোরদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে মেটার বিভিন্ন ফিচার ও অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অনন্ত স্ক্রল, কনটেন্ট সুপারিশ ও নোটিফিকেশন ব্যবস্থা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন।
অভিযোগের কেন্দ্রে আরও একটি গুরুতর বিষয়—শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে মেটার সতর্কতা ও পদক্ষেপ। অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের ঝুঁকি বিবেচনায় কোম্পানির নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
মামলাটি মেটার জন্য শুধু সম্ভাব্য অর্থদণ্ডের বিষয় নয়। অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে রায় এলে ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ডিজাইন, ফিচার এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের চাপ তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে শিশুদের বয়স যাচাই আরও কঠোর করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিছু আসক্তিকর ফিচার সীমিত করা, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে বিধিনিষেধ বাড়ানো এবং অভিভাবকদের জন্য আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে মেটার আইনি চাপ শুধু এই মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মেটা সহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে হাজার হাজার সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি-সংক্রান্ত মামলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি চাপ এখন আরও বিস্তৃত।
এর মধ্যেই নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে আলাদা মামলায় আদালতের ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা এবং শিশু সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের নির্দেশ এসেছে। আগের একটি জরিমানাসহ সেখানে মেটার আর্থিক দায় প্রায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।
তবে ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলায় এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কোম্পানির অবস্থান, তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতি নিয়ে উপস্থাপিত অনেক দাবির সঙ্গে তারা একমত নয়।
তারপরও মামলাটির সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাপক। আদালতের রায়, নতুন অঙ্গরাজ্য আইন এবং একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রামের বয়স যাচাই, অ্যালগরিদম, নোটিফিকেশন এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে।
এটি তাই শুধু মেটা বনাম ২৯ অঙ্গরাজ্যের আইনি লড়াই নয়। সামনে আরও বড় প্রশ্ন—শিশুকে সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে রক্ষার দায়িত্ব শুধু পরিবারের, নাকি সেই প্ল্যাটফর্ম তৈরির কোম্পানিরও? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন নজর আদালতের দিকে।




