যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন
আট আসনে বদলে যাবে ক্ষমতার মানচিত্র

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির আসন ৫৩। দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের আসন ৪৭টি। রিপাবলিকানরা সিনেটে এই ৫৩-৪৭ ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অবতীর্ণ হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কমপক্ষে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে, যা একটি কঠিন কাজ। যদিও সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বাইরের দল ভালো ফল করে থাকে। এবারে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের এই সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা। যার প্রধান কারণ ইরান যুদ্ধ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
অধিকাংশ জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের আটটি সিনেট আসন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই আট আসনের ফলাফলেই বদলে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার মানচিত্র।
টেক্সাস: টেক্সাস ‘রেড স্টেট’ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের এই আসনটি রিপাবলিকানরা ধরে রেখেছেন। গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাসে ১৪ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। অথচ এবার রিপাবলিকানদের এই সিনেট আসনে জরিপে চার থেকে ছয় শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী জেমস টালারিকো।
আইওয়া: আইওয়ায় রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্ট নির্বাচন করছেন না। তার ছেড়ে দেওয়া আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন। এখানে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী জশ টুরিখের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। জরিপে উভয়ের সমর্থন প্রায় ৪৫ শতাংশ।
ওহাইও: ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেট পদপ্রার্থী জন হাস্টেডের হারার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার সর্বশেষ জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট ও সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের ৪৬ শতাংশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। অথচ ২০২৪ সালে এই রাজ্যে ট্রাম্প ১১ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করেছিলেন।
আলাস্কা: আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী মেরি পেলটোলা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ৪৩ শতাংশের বিপরীতে তিনি ৫০ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন। আলাস্কা সার্ভে রিসার্চের জরিপেও পেলটোলার সমর্থন ৫১ এবং সুলিভানের ৪৯ শতাংশ।
কানসাস: সিনেটের এই আসনটি ডেমোক্র্যাটরা জিততে পারেন। রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ভোট চাইছেন। ইউগভের জরিপে তিনি ৩ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন জরিপে ৪৮ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন। রজার মার্শালের সমর্থন ৪৫ শতাংশ।
নেব্রাস্কা: এই আসনে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস। জরিপে তিনি ৪৭ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান ওসবর্ন ৪৮ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থনে ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আসন হারানোর আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট সেখানে পিট রিকেটসের পক্ষে জনসভা করেছেন।
মেইন: ওয়াশিংটন পোস্ট/জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির জরিপে ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী ৫৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমর্থন ৪৬ শতাংশ। জরিপের ফল অনুযায়ী, এই আসনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনা: ইস্ট ক্যারোলাইনা ইউনিভার্সিটির জরিপ অনুসারে, ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী রয় কুপারের সমর্থন ৫০ শতাংশ। আর রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলির সমর্থন ৪৩ শতাংশ। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের ছেড়ে দেওয়া আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এই রাজ্যে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা প্রায় পাঁচটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চারটি আসনে জিততে পারলে এবং নিজেদের আসনগুলো ধরে রাখতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সর্বশেষ প্রকাশিত জরিপগুলো রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই বছর আগে ট্রাম্প যেসব রাজ্যে সহজেই জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে এখন ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন অথবা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এর পাশাপাশি এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে যে লাতিনো ভোটারদের একটি অংশ— যারা ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন— এখন রিপাবলিকান পার্টির দিক থেকে সরে যাচ্ছেন।
(সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিয়েনা, ইউগভসহ বিভিন্ন জরিপের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি)



