আদালতে লিমন-বৃষ্টির বন্ধুরা
‘বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে আমরা জানতে চাই’

আদালতে উপস্থিত ছিলেন লিমন-বৃষ্টির বন্ধু ও পরিচিতরা। ছবি: টাম্পা বে ২৮
হিশাম আবুঘারবের জামিন শুনানির দিন আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বন্ধুরা। তাদের একজন সালমান সাদিক শুভ। তার ভাষ্য, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’
জামিল ও বৃষ্টি হাত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান মামলার বিষয়ে দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কথা আদালতে বর্ণনা করেছেন তিনি। ‘আমরা নিজেদের দায়িত্বশীল মনে করি। খুব ঘনিষ্ঠভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত আমাদের। অন্য বন্ধুরা আছে, অন্যান্য মানুষও আছে যারা লিমন ও বৃষ্টিকে ভালোবাসে। হত্যা মামলা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এখানে আমরা যা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি, তাদের তা জানাতে চাই।’
‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে বেড়াতে যাই, ঘুরতে যাই।’ আদালতে ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বন্ধনের কথা বলছিলেন আবীর আল হাসিব সৌরভ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার আবুঘরবেকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দী করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত। এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন একদল বাংলাদেশি। তাদের বেশির ভাগই লিমন ও বৃষ্টির সহপাঠী কিংবা বন্ধু।
এর মধ্যে একজন রিফাতুল ইসলাম। ‘এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। দেশ থেকে ৮ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমরা এখানে এসেছি। এখানে তারাই আমাদের পরিবার, আমাদের সবকিছু। সব অনুষ্ঠানে আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি।’
‘কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা আমাদের বাড়ি, আমাদের নিজের ঘর, আমাদের নিজের রান্নাঘর— সেখানেই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের খুবই হতবাক করেছে। বুঝতে পারছি না কী বলব। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়,’ বলছিলেন রিফাতুল।
আদালতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু এবং সহপাঠীদের এমন সরব উপস্থিতি লক্ষ করেছেন স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ। তার ভাষ্য, ‘আমি ভাবতেও পারিনি তাদের এত বন্ধু আসবেন। তবে আমরা ভেবেছিলাম তাদের পরিবারের কেউ একজন আসবেন।’
লিমন–বৃষ্টির ন্যায়বিচারের জন্য বন্ধুদের এই সমর্থন দেখে আপ্লুত স্টেট অ্যাটর্নি। তিনি জানান, অন্যান্য শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা ওই দুজনকে আপন করে নিচ্ছেন। যাদের তারা হারিয়েছেন তাদের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন। এটা জানতে পারা সত্যিই দারুণ।’
মঙ্গলবার আবুঘারবেকে জামিন না দিয়ে কারাগারে রাখার আদেশ দিয়েছেন হিলসবরো কাউন্টি জজ জে লোগান মারফি। একই সঙ্গে আসামিকে কোনো সাক্ষী বা নিহত ব্যক্তিদের কোনো স্বজনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের চেষ্টা না করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।
১৬ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় নিখোঁজ হন সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি। পরদিন বৃষ্টির একজন বন্ধু তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।
গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লিমন খুন হয়েছেন বলে জানানো হয়। বৃষ্টির মরদেহের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে হিশাম সালেহ আবুঘারবে নামের এক মার্কিন তরুণকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী হিশাম আর লিমন সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে একই অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষে শেয়ারে ভাড়া থাকতেন।
হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংক্ষিপ্ত শুনানিতে এসব আদেশ দেন বিচারক মারফি। আবুঘারবে এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রসিকিউটররা আশা করছেন, আগামী ৭ মে তারা মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে আবুঘারবের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।






