যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ হস্তান্তর

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ সাউথ ফ্লোরিডা টাম্পার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মরদেহ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।
ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে গোলাম মোর্তোজা লিখেছেন, ‘মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট, বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
তিনি জানিয়েছেন, মরদেহ হস্তান্তরের আগে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জামিল লিমনের পরিবারের সম্মতি নিয়েছে। মুসলিম রীতিতে মরদেহের পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
জামিল লিমনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান গোলাম মোর্তোজা।
১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল ও বৃষ্টি। তাদের সন্ধান না পেয়ে ১৭ এপ্রিল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এক পারিবারিক বন্ধু। পরে দুটি পৃথক নিখোঁজ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করে কাউন্টি শেরিফ।
পরে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সকালে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় পাওয়া যায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ। আর শনিবার সকালে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।
এদিকে, লিমন ও বৃষ্টির সন্দেহভাজন খুনিকে জামিন দেননি দেশটির একটি আদালত। এ সময় আদালত গ্রেপ্তার হিশাম সালেহ আবুঘরবেহরকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।
মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টি আদালতের বিচারক লোগান মারফি এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় টাম্পা বে ২৮-এর প্রতিনিধি জাডা উইলিয়ামস। শুনানি চলার সময় তিনি আদালতে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
জাডা উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের সংক্ষিপ্ত শুনানিতে বিচারক ভুক্তভোগীকে সাক্ষী বা নিজ পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে হওয়া এ শুনানির সময় আবুঘরবেহ আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তবে প্রসিকিউটররা আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) দুটি হত্যা, অস্ত্র রাখার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।



