ইরান ও রাশিয়ার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইরান ও রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন আইনে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার তিনি ‘লিন্ডসি ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরান নিষেধাজ্ঞা আইন ২০২৬’-এ সই করেন।
এর মাধ্যমে দেশ দুটির জ্বালানি খাত এবং দেশটির তেল-গ্যাস কেনা বিদেশি দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত জাহাজের বহর এবং রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
এ ছাড়া নতুন আইনে ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনও ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প।
তবে এ শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে।
আইনে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজ ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে। জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী, ব্যবস্থাপক, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা যেতে পারে।
রাশিয়ার বড় কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে নতুন আইনে ট্রাম্পকে বেশকিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে তিনি নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ বা শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসকে কারণ জানাতে হবে।
তাই আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চীন, ভারত বা রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা অন্য দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসছে না। বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে এসেছে।
এর আগে চলতি মাসেই ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিমান খাতকে লক্ষ্য করে ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের বিমান খাতকে সহায়তা এবং অস্ত্র, লোকবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে।
১০ সেপ্টেম্বরও ইরান-সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার নীতিতে আরও কড়াকড়ি আনার কথা জানায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর।
এভাবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইরান— দুই দেশের বিরুদ্ধেই অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।
নতুন আইনটি মার্কিন কংগ্রেসে বড় ব্যবধানে পাস হয়েছে। আগস্টে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে তা ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। এরপর শুক্রবার এতে সই করেন ট্রাম্প।
আইনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের নামে। রাশিয়ার ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন।
আইনে সই করায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো নয়, বরং নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা এবং শান্তির পথ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘শান্তি আসে শক্তির মাধ্যমে। নিরাপত্তা আসে দৃঢ়তার মাধ্যমে। আর নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হলো দৃঢ় সংকল্প।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও রেডিও লিবার্টি ইউরোপ




