আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণায় রিপাবলিক্যানরা

আমেরিকায় মুসলিম জনগণ। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। সিনেটের ৩৫টি ও হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস’র (প্রতিনিধি পরিষদ) ৪৩৫টি আসনে নির্বাচন। এই ২টি কক্ষ অর্থাৎ কংগ্রেসে রিপাবলিক্যান পার্টি এখন সংখ্যগরিষ্ঠ দল। হোয়াইট হাউজেও তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হবে না। ২০২৮ সালের সাধারন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এরপরও আমেরিকার রাজনীতিতে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ন। প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহিতায় রাখা ও তার একক কর্তৃত্ব টেনে ধরতে পারে এই কংগ্রেসই। এই নির্বাচনে অধিকাংশ জরিপেই ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের খবর দিচ্ছে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে নিজেদের আসনগুলো ধরে রেখে রিপাবলিক্যানদের ৪টি সিনেট ও ৭টি হাউজ আসনে ডেমোক্র্যাটদের জিততেই হবে। মধ্যবতীর্ নির্বাচনে জয়লাভ করতে মরিয়া ট্রাম্প। জিতলে ভোটারদের ৫ হাজার ডলার প্রদান ও কৃষকদের ৮ বিলিয়ন দেবার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অনুদানের ঘোষণার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট সর্মথকদের জঙ্গিবাদী মুসলিম ও কমিউনিস্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। উল্লেখ্য, মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠই ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে থাকে। ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, রিপাবলিক্যানরা জিততে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের মতো অবস্থা হবে। সেখানে মুসলিমরা দাঙ্গা করছে। মুসলিমরা প্যারিস শহর দখল করে নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে এক সমাবেশে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডেমোক্র্যাটিক দলের মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল—সায়েদকে "অত্যন্ত খারাপ মানুষ" বলে অভিহিত করেছেন। ভ্যান্সের অভিযোগ, ডেট্রয়েটের শহরতলিতে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) মার্চ মাসে হামলার পর আব্দুল এল—সায়েদ যে মন্তব্য করেছিলেন, তা আসলে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার শামিল। অবশ্য সায়েদ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। তিনি পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। তিনি সরাসরি মুসলিমদের নেতৃত্বে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এর মাধ্যমে "শরিয়া আদালত" প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তবে উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আলাবামায় মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার অনেক কম। সেখানেও রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদ পদপ্রার্থী টমি টিউবারভিল বলেছেন, “শত্রু আমাদের ঘরের ভেতরেই রয়েছে।” তিনি মূলত ‘উগ্র ইসলাম’—এর দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যানসাস ও অহিও’র নির্বাচনী জনসভায় মুসলিম ও কমিউনিস্ট বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
এই মন্তব্যগুলো ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মুসলিম ও ইসলামকে নির্বাচনী বিতর্কের অংশ করে তোলার একটি প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে যে, ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে কংেগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারবে কি না।
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য অন্যায্যভাবে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের দাবি, তারা নিরাপত্তা, চরমপন্থা এবং জনজীবনে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগ তুলে ধরছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন। ২০০৭ সালে ছিল ২৪ লাখ। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম আমেরিকানরা রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বেশ কয়েকজন মুসলিমের নির্বাচিত হওয়া। গত বছর নিউইয়র্ক শহর তাদের প্রথম মুসলিম মেয়র (জোহরান মামদানি) নির্বাচিত করেছে। এছাড়া, এল—সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ভার্জিনিয়ায় গাজালা হাশমি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কোনো পদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি কিথ সেলফ এবং চিপ রয় মিলে ‘শরিয়াহ—মুক্ত আমেরিকা ককাস’ গঠন করেছেন। এছাড়া ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইন এমন একটি আইন প্রস্তাব করেছেন, যা তার ভাষ্যমতে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইনের “বিস্তার রোধে” কাজ করবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



