ট্রাম্প
শিগগিরই শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ

ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কয়েক মাসের যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু ধরনের গোলাবারুদের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি খুব দ্রুতই শেষ হবে। আমার মনে হয় না তারা (ইরান) আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।’
কয়েক দিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছে। তার ভাষ্য, বৃহত্তর একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা এখনও শক্তিশালী। তবে কিছু ধরনের গোলাবারুদের ক্ষেত্রে সরবরাহ তুলনামূলক সীমিত।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কিছু ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী গোলাবারুদ রয়েছে, যার মজুত কার্যত সীমাহীন। আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আঁটসাঁট।’
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা নির্মাণ করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প।
গত রবিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তির অগ্রগতির কারণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন। তার দাবি, আলোচনায় থাকা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দূর করার ব্যবস্থা।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়া’ হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো হবে। তবে দ্রুত চূড়ান্ত সমঝোতা হলে তবেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে বলেও জানান তিনি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক উত্তেজনার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি উভয় পক্ষের চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যে ভেঙে পড়ে। পরে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান এখনও সম্ভব বলে রিপাবলিকান প্রশাসন মনে করছে।




