বড় স্পোর্টিং ইভেন্টেই বাড়ছে বায়ুদূষণ

বড় পরিসরের এই স্পোর্টিং ইভেন্টগুলো অজান্তেই বায়ুদূষণের মাত্রাকে নিয়ে যাচ্ছে বিপজ্জনক পর্যায়ে। ছবি : সংগৃহীত।
চলতি গ্রীষ্মে বিশ্ব জুড়ে বসতে যাচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক বড় আসর। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ফিফা বিশ্বকাপ, অন্যদিকে গ্লাসগোতে হবে কমনওয়েলথ গেমস।
এই মেগা ইভেন্টগুলো নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় পরিসরের স্পোর্টিং ইভেন্টগুলো অজান্তেই বায়ুদূষণের মাত্রাকে নিয়ে যাচ্ছে বিপজ্জনক পর্যায়ে।
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের পর ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস ছিল যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর। এতে অংশ নিয়েছিলেন ৭২টি দেশের প্রায় ৬ হাজার অ্যাথলেটসহ ৩০ লাখ দর্শক।
অ্যাথলেটিকস ইভেন্ট এবং উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য আলেকজান্ডার স্টেডিয়ামে সমাগম হয়েছিল ৩ লাখের বেশি মানুষ।
এই দর্শকদের ভিড়ের মধ্যেই অবস্থান করছিল বায়ুদূষণ মাপার বিশেষ যন্ত্রপাতিবোঝাই একটি বৈদ্যুতিক ভ্যান। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জো অ্যাক্টন এবং তার দল সেই ভ্যান থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন স্টেডিয়াম এলাকার বায়ুর গুণমান।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফল চমকে দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের। সাধারণ মানুষের ধারণা, শুধু যানজটের কারণেই বায়ুদূষণ বাড়ে। কিন্তু বার্মিংহাম গেমসে দেখা গেছে, স্টেডিয়াম-সংলগ্ন ফ্যান জোনগুলোতে দূষণের প্রধান উৎস ছিল ক্যাটারিং সার্ভিস।
বার্গার, হট ডগ এবং ফ্রাইয়ের মতো ফাস্টফুড তৈরির সময় কড়াইয়ে ভাজাভাজির কারণে ছড়িয়ে পড়ে এই দূষণ। সারা দিন খেলা দেখা একজন দর্শক অন্য এলাকার তুলনায় শিকার হন দ্বিগুণ দূষণের। বিশেষ করে সমাপনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে দূষণের মাত্রা ছিল শহরের অন্য অংশের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর আগে দূষণ বাড়ে খাবারের কারণে। তবে দর্শকরা আসনে বসার পর তা কমে যায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় দূষণ বাড়ে আতশবাজি ফোটানোর সময়।
অন্যদিকে, অ্যাথলেটিকস ইভেন্ট চলাকালে খাবারের দোকানে দীর্ঘ সময় ভিড় থাকায় দূষণও হয় দীর্ঘস্থায়ী।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক উইলিয়াম ব্লস বলেছেন, খারাপ বাতাস শুধু দর্শক বা কর্মীদেরই ক্ষতি করে না, বরং এটি অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্সের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যারা নতুন রেকর্ড গড়তে চান, তাদের জন্য এটি বড় চিন্তার বিষয়।
‘খাবারের দোকানগুলোর রান্নার ধোঁয়ার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়’, আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক উইলিয়াম।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।






