ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সামান্য বাড়লেও জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
- জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, হাতে আর মাত্র আট দিন। এমন সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদনের হার ৩১ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে এই অসন্তোষ কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
কংগ্রেস নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
সাম্প্রতিক জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের ব্যবধান ১১ শতাংশ পয়েন্ট। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা ৫৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। রিপাবলিকানদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতার, আর রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা ৩৩ শতাংশের।
এই পরিসংখ্যান রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিলেও জাতীয় জরিপ থেকে কংগ্রেসের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করা যায় না। প্রতিটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও ভোটার উপস্থিতিও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই মাসে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে গাড়িতে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়তে পারে। এর প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার দামেও পড়তে পারে। বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যবিমা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। ভোটাররা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা বিবেচনা করতে পারেন।
‘যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন নাগরিক রেক্স ফ্লিপ। তাঁর মতে, যুদ্ধ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলছে।
রেক্স ফ্লিপ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিদিন গাড়ি চালানোর খরচ বেড়েছে। নিয়মিত গাড়িতে তেল ভরতে হয় বলে এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি অনুভব করতে হচ্ছে। শুধু জ্বালানি নয়, অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধ এই মূল্যবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পৌঁছে যাচ্ছে।
তবে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধির একমাত্র কারণ যুদ্ধ নয়। জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়ও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তারপরও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার চাপ সাধারণ মানুষের ব্যয়ে পড়তে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে। এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়। তবে কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নজরে নির্বাচন
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক সবুজ তালুকদার। তিনি আগামিত সময়কে বলেন, বাড়ির মর্টগেজের পেমেন্ট থেকে শুরু করে জ্বালানির দাম, সবকিছুই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব বাজেভাবে প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে আমরা যুদ্ধকে সরাসরি দায়ী করতে চাই। এটি ছিল একটি অপরিকল্পিত যুদ্ধ, যে যুদ্ধে আসলে জড়ানোর প্রয়োজন ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় এসব বিষয় মাথায় রাখবেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের প্রভাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিবারের আর্থিক চাপ এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সামান্য বাড়লেও কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ৩ নভেম্বরের ভোটই দেখাবে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের সামান্য বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা সহায়তা করে।



