এক বছর পর ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেল বিজয়ী মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য দেশ ছাড়ার পর এবারই প্রথম ফিরলেন ৫৯ বছরের এই নেত্রী। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেরার খবর জানান তিনি। তবে কীভাবে তিনি দেশে ফিরেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রবিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাচাদো লেখেন, ‘আমি এখানে। আপনাদের সঙ্গে আছি।’ তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ও নির্বাসনে থাকা এদমুন্দো গনসালেসও তার ফেরার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলা! অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের নেত্রী, আমার প্রিয় মারিয়া কোরিনা, এখন ভেনেজুয়েলার মাটিতে।’ তিনি আরও জানান, শিগগিরই তিনিও দেশে ফিরবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে মাচাদোকে দেশটির লারা রাজ্যের রাজধানী বারকিসিমেতোর একটি গির্জায় দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাস থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ২২০ মাইল। সেখানে দিবিনা পাস্তোরা উপাসনালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এ সময় তার দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার সমর্থকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং আলিঙ্গন করেন।
মাচাদোর দেশে ফেরার বিরোধিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মাচাদোর উপস্থিতি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জটিল করে তুলতে পারে। গত জানুয়ারিতে রদ্রিগেসের পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। মাচাদো ও রদ্রিগেস দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাচাদো ভেনেজুয়েলা ছাড়েন। এর কয়েক সপ্তাহ পর মাদুরোকে আটক করা হয়। এরপর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে ফেরার জন্য তিনি অন্তত ছয়বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুনে দেশটির উত্তর উপকূলে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরও তার ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর অনেকেই আশা করেছিলেন, ট্রাম্প মাচাদোকে ক্ষমতা গ্রহণের সমর্থন দেবেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট জয়ী হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। তবে মাদুরো ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসকেই সমর্থন দেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বে দেশটি পরিচালিত হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রশংসা বারবার করেছেন মাচাদো। ভেনেজুয়েলার কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। পরে তিনি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন।
রবিবার মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো একজন নারী। তিনি আমাকে তার নোবেল পুরস্কার দিয়েছেন, তাই তার সম্পর্কে আর কী-ই বা বলতে পারি?’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আশা করি, তিনি নিরাপদে আছেন। তিনি খুব ভালো একজন নারী। তবে ভেনেজুয়েলায় আমরা খুব ভালো করছি।’




