মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ‘ভাবছেন’ ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। একই সময়ে নতুন সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরান পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ওই বৈঠকের মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচনার আগে ট্রাম্প প্রশাসন অঞ্চলটিতে একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ায়। গত বছর ইসরায়েলের বোমা হামলা অভিযানে যোগ দিয়ে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালান। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানের সময় তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খুব জঘন্য কিছু’ করতে হবে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, নয়তো আমাদের খুব কঠোর কিছু করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরবর্তী দফা আলোচনার তারিখ ও স্থান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
চ্যানেল ১২ ও অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, এশিয়ায় অবস্থানরত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে থাকা ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে, তবে উভয়টিরই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। পেন্টাগন চাইলে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস ফোর্ডকেও মোতায়েন করতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনার পর আমরা মনে করেছি, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে বোঝাপড়া ও ঐকমত্য রয়েছে।’
বাঘাই আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানির মঙ্গলবারের ওমান সফর পূর্বনির্ধারিত ছিল। এরপর তিনি কাতারে যাবেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে বাজারের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকায় মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলজুড়ে বিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সমাবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী জানুয়ারি থেকে ইরান-সংকট তীব্র হওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ট্রাকচালিত উৎক্ষেপণযানে স্থাপন করেছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।

