‘ভাবিনি আজই চলে যাবে’, স্ত্রী’র মৃত্যু শোকে কাতর মাহাথির

স্ত্রীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাহাথির মোহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলির মৃত্যু এত দ্রুত হবে, তা তিনি ভাবেননি। মৃত্যুর আগের রাতেও তিনি বেশ ভালো ছিলেন বলে জানান মাহাথির।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার পাহাংয়ের শাসক ও দেশটির সাবেক রাজা সুলতান আবদুল্লাহ রিয়াতউদ্দিন আল-মুস্তফা বিল্লাহ শাহ স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সিতি হাসমাহকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গেলে মাহাথিরের সঙ্গে তার কথা হয়। এ সময় মাহাথির বলেন, ‘আমি ভাবিনি আজই হাসমাহ মারা যাবে। গত রাতে সে বেশ ভালোই ছিল।’
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে মালয়েশিয়ার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ওই দিনই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় এবং পুত্রজায়ার জাতীয় সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাহিত করা হয়।
শেষকৃত্যের সময় হুইলচেয়ারে বসে মাহাথিরকে কাঁদতে দেখা যায়। এ দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
শেষকৃত্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাদের দ্বিতীয় ছেলে মোখজানি মাহাথির। ৬৫ বছরের মোখজানি জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও তার মা বেশ হাসিখুশি ছিলেন। তবে সোমবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
আরেক ছেলে মুখরিজ মাহাথির জানান, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মায়ের পাশে ছিলেন তার বাবা। তিনি বলেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার মায়ের হৃদযন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস সচল করার চেষ্টা করেন।
মুখরিজ বলেন, ‘তিনি সব সময় মানুষ ও দেশের কথা আগে ভাবতেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও তিনি দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতেন।’
মাহাথিরের মেয়ে মারিনা মাহাথির জানান, তার বাবা শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত তিনি। মারিনা বলেন, ‘অবশ্যই তিনি দুঃখিত। ৭০ বছর ধরে তার সঙ্গী ছিলেন তিনি। এখন তাই একাকী বোধ করছেন।’
১৯৫৬ সালে মাহাথির ও সিতি হাসমাহর বিয়ে হয়। গত আগস্টে তাদের দাম্পত্য জীবনের ৭০ বছর পূর্ণ হয়। সিঙ্গাপুরের তৎকালীন কিং এডওয়ার্ড সপ্তম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষার্থী থাকাকালে তাদের পরিচয়।
পড়াশোনা শেষ করার পর সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ে জন্ম নেওয়া সিতি হাসমাহ সরকারি চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তার স্বামীর নিজ রাজ্য কেদাহে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া প্রথম নারী চিকিৎসা কর্মকর্তা হন তিনি।
মাহাথিরের স্ত্রী হিসেবে পাওয়া সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, সাক্ষরতা, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন সিতি হাসমাহ।




