রুশ সহায়তায় প্রথম সমন্বিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উজবেকিস্তান

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পরমানু শক্তি সংস্থা রসাটম এবার মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানে নতুন পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটির প্রথম সমন্বিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি উজবেক প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিত জানিয়েছেন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।
আজ রবিবার রসাটম জানিয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর রাজধানী তাশখন্দে প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে লিখাচেভ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের আগের দিন লিখাচেভ নিজে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের অগ্রগতি দেখেন। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রথম রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের ভিত্তিপ্রস্তর বা ফাউন্ডেশন স্ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হবে।
আলোচনায় পারমাণবিক শিল্পে কর্মরত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য প্লান্টের কাছাকাছি একটি আবাসন শহর গড়ে তোলার বিষয়টিও এসেছে। নির্মিয়মান এই শহরে আধুনিক বাসস্থান, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ নানা সুবিধা থাকবে। সব মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা যাবে।
এ ছাড়া প্লান্ট এলাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে একটি শিল্প ক্লাস্টার গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়ন আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে পারমাণবিক চিকিৎসা, অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং এবং উজবেক প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়েও কথা হয়। বাংলাদেশের মতো উজবেকিস্তানেও দক্ষ জনবল গড়ে তোলাকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, উজবেকিস্তানের প্রথম এই সমন্বিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থাকবে ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টরযুক্ত দুটি বৃহৎ ইউনিট। এর পাশাপাশি থাকবে প্রতিটি ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) ইউনিট, যা আরআইটিএম-২০০এন প্রযুক্তিতে তৈরি হবে।



