ফ্রান্সে বাড়ছে টিউশন ফি
উদ্বেগে বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা

পৃথিবীর বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ পিএসএল বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রান্স। ছবি: আগামীর সময়
ফ্রান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশ থেকে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও উদ্বেগ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি ডিক্রিতে জানানো হয়, আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে এই নতুন ফি কাঠামো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাচেলর বা লাইসেন্স পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বছরে পরিশোধ করতে হবে ২ হাজার ৮৯৫ ইউরো এবং মাস্টার্স পর্যায়ে ৩ হাজার ৯৪১ ইউরো টিউশন ফি। বর্তমানে এই ফি যথাক্রমে ১৭৮ ইউরো ও ২৫৪ ইউরো।
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে ফ্রান্সের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেই এই সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত রাজস্ব শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সংকুচিত করবে এই নীতি।
এ সিদ্ধান্তকে ‘চ্যালেঞ্জিং ও উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্যারিসের সর্বোন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ডা. রোকনুজ্জামান। ‘ফ্রান্স এতদিন তুলনামূলক কম খরচে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য ছিল। নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী সীমিত আর্থিক সহায়তা নিয়ে এখানে আসে। স্কলারশিপ ও পার্ট-টাইম কাজের ওপর নির্ভর করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ফি পরিবারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।’
এরই মধ্যে নতুন নীতির প্রতিবাদে গত ১২ মে প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই ও নিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রথমে মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতির সুযোগ রাখলেও সমালোচনার মুখে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করে সরকার। তবে আগামী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে এই সুবিধা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির ফলে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা দেশটির উচ্চশিক্ষা খাত এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।




