কার ঘরে যাচ্ছে নোবেল শান্তি পুরস্কার

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব যখন একের পর এক যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয় এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আসছে নোবেল শান্তি পুরস্কার। শুক্রবার নরওয়ের অসলো থেকে ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের এ পুরস্কার। ইউক্রেন যুদ্ধ, সুদানের মানবিক সংকট, গাজায় সংঘাত, আন্তর্জাতিক আইনের চ্যালেঞ্জ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অস্ত্রের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এবার পুরস্কারটি শুধু একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নয়; বরং বিশ্বকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
নরওয়ের নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে নোবেল কমিটি মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। মনোনয়ন ও মূল্যায়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে এখন যে নামগুলো আলোচনায় রয়েছে, সেগুলো মূলত গবেষক, বিশ্লেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ভিত্তিতে উঠে এসেছে।
এ বছর সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত তালিকাগুলোর একটি প্রকাশ করেছে নরওয়ের পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হোকান ইয়োরলোভ প্রতি বছরের মতো এবারও নিজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সম্ভাব্য কয়েকটি নাম প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ; এর সঙ্গে নোবেল কমিটি বা নোবেল ইনস্টিটিউটের কোনো সম্পর্ক নেই।
হোকান ইয়োরলোভের তালিকার প্রথমেই রয়েছে ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মিকোলা কুলেবা এবং আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন। মিকোলা কুলেবা ২০১৪ সালে সেভ ইউক্রেন প্রতিষ্ঠা করেন এবং এরপর থেকে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পিআরআইওর মতে, তাদের পুরস্কৃত করা হলে যুদ্ধের সবচেয়ে অবহেলিত শিকার শিশুদের দুর্দশা নতুন করে বিশ্ববাসীর নজরে আসবে।
তালিকায় রয়েছে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ইআরআর)-এর নামও। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর যখন আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে থাকে, তখন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের এই নেটওয়ার্ক কমিউনিটি কিচেন, চিকিৎসাসেবা, উদ্ধারকাজ এবং জরুরি সহায়তার দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে তুলে নেয়। পিআরআইও মনে করে, এই সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হলে সংকটকালে স্থানীয় মানবিক উদ্যোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।



