পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ইরানের

গোল টেবিল বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি এবং সংশ্লিষ্টরা। ছবি : সিআইএসএস
উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কমাতে পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বর্ণনা করেছে তেহরান।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (সিআইএসএস) আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান আলোচনা সহজ করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ায় গঠনমূলক কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।’
‘পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক এই আলোচনায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও গবেষকরা অংশ নেন। তারা ক্রমবর্ধমান অস্থির আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সিআইএসএসের নির্বাহী পরিচালক রাষ্ট্রদূত আলী সরওয়ার নাকভি উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা আঞ্চলিক শান্তি, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে টেকসই সংলাপ ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে পাকিস্তানের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা ইসলামা বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মইনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানি জনগণের দেখানো স্থিতিস্থাপকতা ও জাতীয় ঐক্য দেশটিকে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করেছে।
কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নাজিশ মাহমুদ মনে করেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ফয়সাল শাহ সমুদ্রীয় মাত্রায় সংকট নিয়ে মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পয়েন্ট। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমুদ্রীয় স্থিতিশীলতার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিলাল জুবায়ের আশা করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত পাকিস্তান ও ইরানকে আগের চেয়ে আরও কাছাকাছি এনেছে। তাদের সাধারণ সীমান্ত, অর্থনৈতিক আন্তর্নির্ভরশীলতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে সাধারণ উদ্বেগ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এর আগে, চলতি মাসের ২১ জুলাই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি রাষ্ট্রীয় সফরে এসে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র : ডন




