ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ‘ঘরবন্দি’ পাকিস্তানিরা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ছবি : এএফপি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় রাজধানী ইসলামাবাদ ও সেনা সদরদপ্তর রাওয়ালপিন্ডিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। এর আওতায় অলিখিত লকডাউন বাস্তবায়ন করেছে কর্তৃপক্ষ। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ঘরবন্দি করা হয়েছে বিমানঘাঁটির আশপাশের বাসিন্দাদের।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গভীর রাতে এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, সোম বা মঙ্গলবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমনের প্রস্তুতি হিসেবে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও যানবাহন নিয়ে দুটি বিশাল মার্কিন সি-১৭ কার্গো বিমান রবিবার বিকেলে অবতরণ করেছে নূর খান বিমানঘাঁটিতে।
‘আমার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন, আলোচনার জন্য আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন তারা’— রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে এমন পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কিন্তু মার্কিন দলটির নেতৃত্ব কে দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আলোচনার প্রথম দফায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যেটি ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ১১ ও ১২ এপ্রিল। যদিও ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনায় আসেনি কোনো সমাধান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে হয় এ আলোচনা।
এর আগে, ৮ এপ্রিল ৪০ দিনের সংঘাত শেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বুধবার শেষ হচ্ছে এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন যদি চূড়ান্ত চুক্তি একটি বাস্তবায়িত হয় ।
এদিকে, আলোচনার আগে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিকে। রাজধানীর উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন রেড জোন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি উভয় শহরে গণপরিবহনও স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে, রেড জোনে অবস্থিত সব অফিস আজ (সোমবার) ওয়ার্ক ফ্রম হোম ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। বিচার বিভাগেও হবে না আজ কোনো মামলার শুনানি।
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে কমান্ডো ও স্নাইপারসহ ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। এ ছাড়া ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খালি করে দেওয়া হয়েছে অতিথিদের জন্য দুটি বিলাসবহুল হোটেল।
সীমিত করা হয়েছে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর পাশের বাজার, ম্যারেজ হল এবং পার্কিং। দাঙ্গা দমন ইউনিট ও সাদা পোশাকের কর্মীদের সহায়তায় আবাসিক ভবনের ছাদ, সেতু ও প্রধান সড়কগুলোতে মোতায়েন হয়েছে রেঞ্জার ও পুলিশ।
রাওয়ালপিন্ডি জুড়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থগিত করা হয়েছে মেট্রো, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন।
একইভাবে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মারগালা পাহাড়ের বেশ কয়েকটি হাইকিং ট্রেইল। পুলিশের মতে, বিদেশি প্রতিনিধি দলের আগমনের কারণে এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং নাগরিকদের জন্য করা হয়েছে বিকল্প যান চলাচলের পরিকল্পনা।
১৯ এপ্রিল থেকে একটি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করেছে পাকিস্তান সরকার। যার আওতায় পিকেট, পথ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল করা হয়েছে মোতায়েন।
রাজধানীর উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলের প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৬৭টি প্রবেশপথ এবং কোরাল থেকে ফৈজাবাদ পর্যন্ত রাস্তাটিতে নিশ্চিত করা হয়েছে কঠোর নজরদারি।

