ট্রাম্পের আপত্তিতে পিছু হটল যুক্তরাজ্য

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ। সংগৃহীত ছবি
মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। সংশ্লিষ্ট চুক্তি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন প্রত্যাহার করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন।
মরিশাসের উত্তর-পূর্বে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থান চাগোস দ্বীপপুঞ্জের। ৬০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ দ্বীপপুঞ্জ ১৮১৪ সাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে ব্রিটেন।
বহু বছরের আলোচনার পর গত বছরের মে মাসে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয় যুক্তরাজ্য। কিন্তু গেল জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত হস্তান্তরকে ‘বড় বোকামি’ বলে আখ্যা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন মন্তব্যের পর চুক্তিটি স্থগিত করে লন্ডন।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে চুক্তিটি অনুমোদন করার সময় নেই পার্লামেন্টের। এ ছাড়া চুক্তি কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ এখনো পায়নি লন্ডন।
২০২০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা সাইমন ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, ‘চুক্তিটি স্থগিত করা ছাড়া ব্রিটেনের কোনো পথ ছিল না। যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যেই বৈরী অবস্থানে থাকেন, তখন নতুন করে ভাবতেই হয় লন্ডনকে।’
১৯৬০-এর দশকে মরিশাস স্বাধীনতা পাওয়ার পরও চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন। তবে শুরু থেকেই এই দ্বীপমালার সার্বভৌমত্ব নিজেদের বলে দাবি করে আসছে মরিশাস। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মত দেয় যে, দ্বীপপুঞ্জটি মরিশাসকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ব্রিটেনকে ওই অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘও।
এমতাবস্থায় চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে ফিরিয়ে দিতে চুক্তি করেছে ব্রিটেন। তবে চুক্তিটির বিরোধিতা করেছে ব্রিটেনের বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে—দুদলই। তাদের দাবি, দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিলে সেখানে বাড়বে চীন ও রাশিয়ার হস্তক্ষেপ। তারাই সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল ট্রাম্পকে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলছে, ওয়াশিংটন ও পোর্ট লুইস—দুই পক্ষের সঙ্গেই অব্যাহত থাকবে আলোচনা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া চাগোস চুক্তি আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
















